বর্তমান সময়ে সবচেয়ে ক্ষতিকর পরিবেশ কোনটি,তা বলতে গেলে আগে আসে স্কুল-কলেজের কথা।
আমাদের স্কুল-কলেজগুলো একটা সময় আক্ষরিক অর্থেই পড়াশোনা করার স্থান ছিল । তখন যদিও এখনকার বিংশশতাব্দীর মত আধুনিক সুবিধা ছিল না,তথাপি সমাজের অশিক্ষা,কুসংস্কার,অপ্রাকৃতিক ভীতি প্রভৃতি দূর করতে এবং প্রকৃত জ্ঞানী হওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল স্কুল-কলেজ। এগুলো আমরা ইতিহাস নাড়াচাড়া করলেই জানতে পারি।
কিন্তু এখনকার এই সময়ে পড়াশোনার মানেই হচ্ছে বিশাল বড় এক কসাইখানা যেখানে ক্রেতার পছন্দ অনুসারে গরুকে বিভিন্নভাবে সাজানো হয়। আমি একটা শিক্ষার্থীকেও খুঁজে পেলাম না যে কিনা চাকরী কিংবা ক্যারিয়ারের জন্য পড়াশোনা করছে না।
পড়াশোনাটা এখন পুরোপুরি ব্যাবসায়ীক।
শিক্ষার্থীরা এই ব্যাবসায়ের ক্রেতা এবং শিক্ষকরা এখানে ব্যাবসায়ী।
তাই আগের মত জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ আর পড়াশোনা করছে না।
নিম্ন মাধ্যমিক পর্বে বাংলা বইয়ে প্রমথ চৌধুরির বই পড়া নামে যে প্রবন্ধটি আছে, আমি তার সাথে একমত। স্কুল-কলেজের বিদ্যা যে কোন মানুষের অন্তরের ইচ্ছাশক্তিকে নষ্ট করে দেয়,ফলে তার আত্নার স্বাধীনতা নষ্ট হয়।
অনেক জ্ঞানী এবং স্থির বুদ্ধিসচেতন ছেলে-মেয়ে আছে,যাদের জীবনে পড়াশোনা হয় না বলে তারা কোন চাকরি পায় না। এ অবস্থায় পিতার যদি কোন সহায়-সম্বল না থাকে,তাহলে ওই সব ছেলে-মেয়েদের জগৎ হয়ে যায় ভয়ঙ্কর অমানবিক কাজ-কারবারের।
আমি বর্তমানের লেখাপড়াকে ঘৃণা করি।
কিন্তু তবুও আমি পড়ছি। কারণ পড়াশোনা করাটা এখন একটা ফ্যাশন। এই ফ্যাশন না করলেই লোকে ভাববে- আহারে, নিশ্চই অভাবী কিংবা অজ্ঞানী পরিবেশের ছেলে।
তাছাড়া আরেকটা ব্যাপার হল,আমার পিতা চান না আমি আমার পড়াশোনা বন্ধ করে অন্য কোন ব্যাবসায়ীক চিন্তা-ভাবনা করি।
তো যা বলছিলাম, এই যুগের পড়াশোনা,বিশেষ করে আমাদের দেশে স্বশিক্ষার কোন সুযোগ নেই। এখানে সমাজ,সরকার এবং শিক্ষকরা একসাথে গিলিয়ে খাওইয়ে দেন আমাদের মত ছাত্রদের। ফলে কারো যদি বিজ্ঞান,পৃথিবী এবং আধ্যাতিক বিষয় নিয়ে শেখার আগ্রহ থাকে তবে অচিরেই তা বিনষ্ট হয়ে যায়।
আওয়ামী লীগ,বিএনপি কিংবা যে সরকারই দেশ শাষন করছে,তারা কেউ-ই আমাদের পড়াশোনাটাকে পাশ্চাত্যের মত পরিবর্তন করতে পারছে না। বরং পরিবর্তনের নাম দিয়ে বর্তমানে পড়াশোনাকে সম্পূর্ণ খুজলির মলম বানানো হয়েছে।
অথচ পাশ্চাত্যের অন্যান্য সব আচরণ,চিন্তা,সমাজ,শিল্প-সাহিত্য আমাদের খুব প্রভাবিত করে!!
একেই বোধহয় বলে-
গরুর লেজের গোছা পায় না,
পাছা নিয়ে টানাটানি।
তবুও ভাগ্যি! একেবারে পিষেতো মরে যাই নি! শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে তো পারছি!
ওইটা আর সরকারের হাতে দিয়ে দিতে হয় নি।
Saturday, March 20, 2010
পৃথিবী বদলে যাচ্ছে,বদলে যাচ্ছে মেয়েরা!
শয়তান আগে শুধু এক প্রজাতিতে বন্দি ছিল,এখন সে ছাড়া পেয়ে গেছে। তার আর কোন বাঁধা কিংবা বাঁধন নেই। সে পুরুষ এবং মহিলা দুইজনের শরীরেই সমাবভাবে বিস্তার করতে পারছে। তবে আজকাল সে বোধহয় মেয়েদের শরীর নিয়ে খেলাধূলা করছে বেশী। তা না হলে আমাদের মুসলিম সমাজে মেয়েদের এই অধঃপতন কি কারণে খৃষ্টানদেরও ছাড়িয়ে যাচ্ছে তা আজকে গবেষণার বিষয়।
যখন আমাদের মুসলিম সমাজের মেয়েরা এত বেশী স্বাধীন ছিল না। বেঁচে থাকার মানে যখন তাদের ছিল শুধু মাত্র বিদ্যা চর্চা আর খুন্তি নাড়া দিয়ে শশুরবাড়িতে পৌছানো,তখন সমাজ ছিল আশাতিরিক্ত সুখি এবং সমৃদ্ধ।
যুগের হাওয়ার বাণে ভেসে গেল সেই মেয়েদের খোলস। পাল্টে গেল তাদের জীবনবিধি এবং আচরণ। এখন তাদের কারণে শুরু হয়েছে যত সব ফিতনা আর জাহেলী মার্কা কাজ-কারবার।
আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তা নিয়ে এখন আর আমার মনে কোন সন্দেহ নেই। তাঁরা মেয়েদের স্বাধীনতার স্বত্তাকে সম্পূর্ণরূপে বাবা-মায়ের হাতে রাখা শ্রেয় মনে করতেন। আজ বুঝছি,তাদের এই ব্যবস্থার মত যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা এখন আর আমেরিকা-রাশিয়ার মত প্রেসিডেন্টরাও করতে পারবেন না।
যখন মেয়েরা পরাধীনভাবে বাবা-মায়ের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরে সব কিছু ছেড়ে দিত,তখন আমাদের মুসলিম সমাজের অনেক বিখ্যাত মনীষী এবং মহিয়সীগণ মেয়েদের এই পরাধীনতার খোলসটাকে দুঃখের সমুদ্র মনে করে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন। যা ছিল মারাত্নক ভুল।
তাঁরা মেয়েদের দয়া করে এ জগৎ সংসারের হাল তাদের ঘাড়ে দিয়ে দিয়েছিলেন। ফল এখন আমরা সবাই দেখছি।
আগের মত আর কারো হায়া নেই। সব,সব্বাই বেহায়া,বেশরম,বেলাজা,বেত্তমিজ মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যা বাদে।
তাদের অসামাজিক বলেন আর বেসামাজিক বলেন সমস্ত কাজ-কারবার এখন প্রতি পদে পুরুষকে টেক্কা দিয়ে হচ্ছে। সেই দিন আর বেশী দেরী নেই,যেদিন রাস্তা –ঘাটে কুকুর বিড়ালের মত জ্বিনা করবে নর-নারীরা।
আগে প্রায় টিভিতে কিংবা সংবাদে খবর দেখা যেত অমুক মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তা আশাতিত হারে কমে গেছে। কারণ সহজ,মেয়েরা পুরুষের মত কামুকে জীবন শুরু করেছে। তারা বিয়ের আগে হানিমুন করছে।
আর গত বছর দুই ধরে স্বয়ং মুসলিম সমাজে শুরু হয়েছে পুরুষ ধর্ষণ!
আশ্চর্য হলেও সতি,সেদিন পাকিস্তানে তিন শিল্পপতির মেয়ে এক অসহায় অল্পবয়স্ক বাচ্চা ছেলেকে ধরে আনে। তারপর তিন বান্ধবী মিলে সারারাত ছেলেটির সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় খেলায় নিমজ্জিত হয়। ছেলেটি প্রথমে রাজী হয়নি,কিন্তু তাকে জোর করে ধর্ষণ করে সেই কাজ করার জন্য বাধ্য করা হয়। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ছেলেটির যৌনাঙ্গ ফুলে ফেঁটে রক্ত বেড়িয়েছে এবং এই মূহুর্তে সে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে।
আমরা অনেকে দিন বদলের গল্প শুনি। এই কি দিন বদল,এই কি পৃথিবীর বদলে যাওয়া?
সে প্রশ্ন পরেও করা যাবে। এখন পাকিস্তান থেকে ইন্ডিয়া এবং আমাদের দেশে আল্লাহ না করুন এই ধরণের ঘটনা না জানি ঘটে যায়!!
আমাদের বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়েদের প্রতি আরো বেশী সাবধান থাকবেন। ম্যাচিউড হলেও প্রয়োজন ছাড়া তাদের বাইরে বেরোতে দিবেন না।
কারণ একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ের প্ররোচনায় পরে নষ্ট হয়। বাবা-মা ও ভাই-বোনেরা সাবধান।
যখন আমাদের মুসলিম সমাজের মেয়েরা এত বেশী স্বাধীন ছিল না। বেঁচে থাকার মানে যখন তাদের ছিল শুধু মাত্র বিদ্যা চর্চা আর খুন্তি নাড়া দিয়ে শশুরবাড়িতে পৌছানো,তখন সমাজ ছিল আশাতিরিক্ত সুখি এবং সমৃদ্ধ।
যুগের হাওয়ার বাণে ভেসে গেল সেই মেয়েদের খোলস। পাল্টে গেল তাদের জীবনবিধি এবং আচরণ। এখন তাদের কারণে শুরু হয়েছে যত সব ফিতনা আর জাহেলী মার্কা কাজ-কারবার।
আমাদের পূর্বপুরুষেরা যে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তা নিয়ে এখন আর আমার মনে কোন সন্দেহ নেই। তাঁরা মেয়েদের স্বাধীনতার স্বত্তাকে সম্পূর্ণরূপে বাবা-মায়ের হাতে রাখা শ্রেয় মনে করতেন। আজ বুঝছি,তাদের এই ব্যবস্থার মত যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা এখন আর আমেরিকা-রাশিয়ার মত প্রেসিডেন্টরাও করতে পারবেন না।
যখন মেয়েরা পরাধীনভাবে বাবা-মায়ের ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরে সব কিছু ছেড়ে দিত,তখন আমাদের মুসলিম সমাজের অনেক বিখ্যাত মনীষী এবং মহিয়সীগণ মেয়েদের এই পরাধীনতার খোলসটাকে দুঃখের সমুদ্র মনে করে আবেগে আপ্লুত হয়েছিলেন। যা ছিল মারাত্নক ভুল।
তাঁরা মেয়েদের দয়া করে এ জগৎ সংসারের হাল তাদের ঘাড়ে দিয়ে দিয়েছিলেন। ফল এখন আমরা সবাই দেখছি।
আগের মত আর কারো হায়া নেই। সব,সব্বাই বেহায়া,বেশরম,বেলাজা,বেত্তমিজ মুষ্টিমেয় কিছু সংখ্যা বাদে।
তাদের অসামাজিক বলেন আর বেসামাজিক বলেন সমস্ত কাজ-কারবার এখন প্রতি পদে পুরুষকে টেক্কা দিয়ে হচ্ছে। সেই দিন আর বেশী দেরী নেই,যেদিন রাস্তা –ঘাটে কুকুর বিড়ালের মত জ্বিনা করবে নর-নারীরা।
আগে প্রায় টিভিতে কিংবা সংবাদে খবর দেখা যেত অমুক মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক বছরে তা আশাতিত হারে কমে গেছে। কারণ সহজ,মেয়েরা পুরুষের মত কামুকে জীবন শুরু করেছে। তারা বিয়ের আগে হানিমুন করছে।
আর গত বছর দুই ধরে স্বয়ং মুসলিম সমাজে শুরু হয়েছে পুরুষ ধর্ষণ!
আশ্চর্য হলেও সতি,সেদিন পাকিস্তানে তিন শিল্পপতির মেয়ে এক অসহায় অল্পবয়স্ক বাচ্চা ছেলেকে ধরে আনে। তারপর তিন বান্ধবী মিলে সারারাত ছেলেটির সাথে পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় খেলায় নিমজ্জিত হয়। ছেলেটি প্রথমে রাজী হয়নি,কিন্তু তাকে জোর করে ধর্ষণ করে সেই কাজ করার জন্য বাধ্য করা হয়। ফলে যা হবার তাই হয়েছে। ছেলেটির যৌনাঙ্গ ফুলে ফেঁটে রক্ত বেড়িয়েছে এবং এই মূহুর্তে সে একটি হাসপাতালে চিকিৎসারত আছে।
আমরা অনেকে দিন বদলের গল্প শুনি। এই কি দিন বদল,এই কি পৃথিবীর বদলে যাওয়া?
সে প্রশ্ন পরেও করা যাবে। এখন পাকিস্তান থেকে ইন্ডিয়া এবং আমাদের দেশে আল্লাহ না করুন এই ধরণের ঘটনা না জানি ঘটে যায়!!
আমাদের বাবা-মায়েরা ছেলে-মেয়েদের প্রতি আরো বেশী সাবধান থাকবেন। ম্যাচিউড হলেও প্রয়োজন ছাড়া তাদের বাইরে বেরোতে দিবেন না।
কারণ একটি মেয়ে আরেকটি মেয়ের প্ররোচনায় পরে নষ্ট হয়। বাবা-মা ও ভাই-বোনেরা সাবধান।
জাতি আজ কলঙ্ক যুক্ত!
আমাদের দেশের অধিকাংশ লেখক,সাংবাদিক,পুলিশ এবং নেতাদের একটা বদ অভ্যাস আছে। তাঁরা নিজের খেয়ে পরের মহিষ তাঁড়াতে কিংবা ছুরি হাতে দন্ডায়মান জল্লাদের চামচা হতে ভীষন পছন্দ করেন।
এর কারণ স্বার্থ কিংবা প্রাণ বাঁচাতে যে কারণেই হোক না কেন,তাঁদের উদ্দেশ্য যে অত্যন্ত মহৎ তা নিয়ে কোন সংশয় নেই।
কিন্তু আমাদের দেশে একটা একটা প্রবাদ আছে- চোরের দশ দিন,তো গৃহস্থের একদিন।
এ কথাটা হয়তো তাঁরা ভুলে গেছেন। কাজেই তাঁরা ধরে নেন যে এই অবস্থাই ছিল,এই অবস্থাই আছে এবং এই অবস্থাই থাকবে।
তাঁদের এহেন নির্বুদ্ধিযুক্ত এসব কাজ-কারবার দেখে আমার হাসিও আসে,আবার রাগও হয় প্রচন্ড।
দেশের মানুষ নিশ্চয়ই রাজনীতির চামচা নয়,বরং রাজনীতি দেশের মানুষের উপর নির্ভরশীল। এ কথার পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী প্রমাণ আমাদের চোখে-মুখের সামনেই ভাসছে। তাই এ নিয়ে ফ্যাচফ্যাচ করে উল্টা-পাল্টা লিখে আপনাদের কারো সময় নষ্ট করতে চাই না।
আসল কথা হল গিয়ে যে সমস্ত মানুষ রাজনীতি করছে তাদের আচার-ব্যবহার নিয়ে। একটা সময় আমার মনে হত দেশ থেকে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি যদি সমূলে ধ্বংস করা হয়, তবেই বুঝি বাংলাদেশ হতে সকল প্রকার রাজনৈতিক অস্থিরতা,অশান্তি এবং দুর্নীতির সুখময় সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,দল ধ্বংস করা মানে দেশকে ধ্বংসের হাতে ঠেলে দেয়া। কারণ নতুন যে দল আসবে তারা কখনো দেশ চালায় নি বলে বিষয়টি তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন বলে মনে হবে। তাই কোন দল ধ্বংস নয়,বরং দলের নেতা-কর্মীদের সৎ মানষিকতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
যাই হোক,অনেক অপ্রয়োজনীয় কথা বলে ফেললাম।
তো আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু শ্রেণীর মানুষের আচার-ব্যবহারও পাল্টে যায়। অনেকখানি ঋতু পরিবর্তনের মতই ব্যাপার-স্যাপার!
তাদের সংখ্যা যেমন অসংখ্য,তেমনই তাদের সমর্থনকারীদের সংখ্যাও অগণিত। কারণ আমি যদি কারো প্রশংসা করি,তাহলে তো সে আমাকে সাপোর্ট করবেই।
এই সমস্ত মানুষ,যারা দলের কর্মী না হয়েও দলের পক্ষে চামচামী করে তাদের মুখের মাপকাঠি সহসা বোঝা যায় না। যখন যেই দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের প্রশংসা করতে করতে তাদের নাভিতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। নেত্রী তখন হয়তো সাদর সম্ভাসন ও প্রশংসা বিগলিত কন্ঠে তার শ্লোকবাণী জ্ঞাপন করেন নিজ লোক সমক্ষে।
এই চামচারা টেলিভিষণে দেয় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কিংবা নেতা-এমপির উদ্দেশ্যে সম্মানসূচক ছড়া এবং প্রশংসা।
রেডিওতে দেয় তাদের বিশ্বনিন্দিত কিন্তু বাঙ্গালী কতৃক প্রশংসিত শুভেচ্ছা বাণী!
আর পত্র-পত্রিকায় লিখে লেখকের চেয়ে সম্পাদকের কালি আগে ফুরিয়ে যায় ক্ষমতায় থাকা দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর তেল দিতে দিতে।
এহেন চামচে ভরা দেশের লেখক,সাংবাদিক,পুলিশ এবং নেতাদের মত লোকজনেরা। তারা বিএনপির আমলে ধানের গোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল,আর এখন ব্যস্ত আওয়ামী লীগের ত্রানের নৌকা নিয়ে। তাদের ব্যস্ততা কোন দলের বেলায়ই শেষ হয় না।
এই যেমন সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হল। তারপর দেখতে পেলাম সেই সব চামচাদের। তারা লোকসমাজে,মিডিয়ায় এবং সংবাদপত্রে সমানভাবে বন্দনা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অমরত্বের দুর্লভ নির্মম কাহিণী।
তখন মিছে তাদের চোখের জল দেখে ঘৃণায় রিরি করেছে আমার মন। মিছে এই সং সাজার পিছনের কারণ হল নেত্রীকে খুশী করা।
তাদের একেকজনের সাহিত্যের পাতা বাংলা একাডেমিতে স্থান পেয়েছে বছরের সেরা প্রবন্ধ হিসেবে। অথচ আমার জানামতে বঙ্গবন্ধু ধোয়া তুলসী পাতা জাতীয় কিছু নন। যাক,মৃত মানুষ সম্পর্কে মন্তব্য করতে নেই। তবে শেখ হাসিনা যে দুটি কথা বলেছেন তা আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে।
এক,”কোন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়,একজন সাধারণ কন্যা হিসেবে পিতার সোহাগ হতে বঞ্চিতকারী খুনীদের শাস্তির প্রত্যাশা করেছি আমি।”
দুই,”আওয়ামী লীগে কোন দল পরিবর্তনকারীদের স্থান হবে না।”
দুই নম্বর পয়েন্টটি আমার পূর্বের সমস্ত কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট কিনা তা ভেবে দেখতে সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।
আমরা জানি,বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনীদের বিচার হয়েছে। এখন এটা ঠিক যে যারা হত্যা করেছেন তারা সকলেই চরম শাস্তির যোগ্য। কিন্তু পৃথিবীতে কেউ যত পাপই করুক,কোন মানুষের কি পাপের দরুণ মৃত্যুকে বরণ করার পরেও জুতার মার খাওয়ার প্রয়োজন আছে?
ঠিক সে কাজটি হয়েছে আসামীদের মৃত্যুদন্ডের পর। এরপর আবার সেই সব সাংবাদিক,লেখক,পুলিশ আর নেতাদের নানা শ্রেণীবিভাগ (যারা চামচাদের অন্তর্গত) দাবি করছে যে জাতি আজ কলঙ্ক মুক্ত।
কিন্তু আমি দিব্য দৃষ্টিতে বলুন আর আসল দৃষ্টিতেই বলুন দেখতে পাচ্ছি যে জাতি আজ থেকে কলঙ্ক যুক্ত হ্ল।
কারণ রাজনৈতিক অপরাধ শুধু বাংলাদেশে নয়,পৃথিবীর আরো অনেক দেশেই দেদার হচ্ছে। তাই বলে শাস্তি প্রদানপূর্বক মৃত্যুর পর তাদের কবরে পৌছার আগে পুনরায় জুতা মেরে গরু দান করার মত দৃষ্টান্ত মনে হয় একেবারেই বিরল!!
এত সব ঘটনা নিয়েই আমরা অনেক ব্যস্ত আছি,তাই চামচারা যা বলে তাতেই আমাদের হৃদয়ক্ষরণ শুরু হয়,জানিনা কবে এই অবস্থা বন্ধ হয়ে আমাদের নেত্রীদের চোখের তারা খুলবে।
এর কারণ স্বার্থ কিংবা প্রাণ বাঁচাতে যে কারণেই হোক না কেন,তাঁদের উদ্দেশ্য যে অত্যন্ত মহৎ তা নিয়ে কোন সংশয় নেই।
কিন্তু আমাদের দেশে একটা একটা প্রবাদ আছে- চোরের দশ দিন,তো গৃহস্থের একদিন।
এ কথাটা হয়তো তাঁরা ভুলে গেছেন। কাজেই তাঁরা ধরে নেন যে এই অবস্থাই ছিল,এই অবস্থাই আছে এবং এই অবস্থাই থাকবে।
তাঁদের এহেন নির্বুদ্ধিযুক্ত এসব কাজ-কারবার দেখে আমার হাসিও আসে,আবার রাগও হয় প্রচন্ড।
দেশের মানুষ নিশ্চয়ই রাজনীতির চামচা নয়,বরং রাজনীতি দেশের মানুষের উপর নির্ভরশীল। এ কথার পরোক্ষ এবং প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী প্রমাণ আমাদের চোখে-মুখের সামনেই ভাসছে। তাই এ নিয়ে ফ্যাচফ্যাচ করে উল্টা-পাল্টা লিখে আপনাদের কারো সময় নষ্ট করতে চাই না।
আসল কথা হল গিয়ে যে সমস্ত মানুষ রাজনীতি করছে তাদের আচার-ব্যবহার নিয়ে। একটা সময় আমার মনে হত দেশ থেকে আওয়ামী লীগ আর বিএনপি যদি সমূলে ধ্বংস করা হয়, তবেই বুঝি বাংলাদেশ হতে সকল প্রকার রাজনৈতিক অস্থিরতা,অশান্তি এবং দুর্নীতির সুখময় সমাপ্তি ঘটবে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি,দল ধ্বংস করা মানে দেশকে ধ্বংসের হাতে ঠেলে দেয়া। কারণ নতুন যে দল আসবে তারা কখনো দেশ চালায় নি বলে বিষয়টি তাদের কাছে সম্পূর্ণ নতুন বলে মনে হবে। তাই কোন দল ধ্বংস নয়,বরং দলের নেতা-কর্মীদের সৎ মানষিকতার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন সম্ভব।
যাই হোক,অনেক অপ্রয়োজনীয় কথা বলে ফেললাম।
তো আমাদের দেশে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছু শ্রেণীর মানুষের আচার-ব্যবহারও পাল্টে যায়। অনেকখানি ঋতু পরিবর্তনের মতই ব্যাপার-স্যাপার!
তাদের সংখ্যা যেমন অসংখ্য,তেমনই তাদের সমর্থনকারীদের সংখ্যাও অগণিত। কারণ আমি যদি কারো প্রশংসা করি,তাহলে তো সে আমাকে সাপোর্ট করবেই।
এই সমস্ত মানুষ,যারা দলের কর্মী না হয়েও দলের পক্ষে চামচামী করে তাদের মুখের মাপকাঠি সহসা বোঝা যায় না। যখন যেই দল ক্ষমতায় আসে তখন সেই দলের প্রশংসা করতে করতে তাদের নাভিতে শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। নেত্রী তখন হয়তো সাদর সম্ভাসন ও প্রশংসা বিগলিত কন্ঠে তার শ্লোকবাণী জ্ঞাপন করেন নিজ লোক সমক্ষে।
এই চামচারা টেলিভিষণে দেয় নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর কিংবা নেতা-এমপির উদ্দেশ্যে সম্মানসূচক ছড়া এবং প্রশংসা।
রেডিওতে দেয় তাদের বিশ্বনিন্দিত কিন্তু বাঙ্গালী কতৃক প্রশংসিত শুভেচ্ছা বাণী!
আর পত্র-পত্রিকায় লিখে লেখকের চেয়ে সম্পাদকের কালি আগে ফুরিয়ে যায় ক্ষমতায় থাকা দলের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের উপর তেল দিতে দিতে।
এহেন চামচে ভরা দেশের লেখক,সাংবাদিক,পুলিশ এবং নেতাদের মত লোকজনেরা। তারা বিএনপির আমলে ধানের গোলা নিয়ে ব্যস্ত ছিল,আর এখন ব্যস্ত আওয়ামী লীগের ত্রানের নৌকা নিয়ে। তাদের ব্যস্ততা কোন দলের বেলায়ই শেষ হয় না।
এই যেমন সর্বশেষ বঙ্গবন্ধুর খুনীদের ফাঁসির রায়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হল। তারপর দেখতে পেলাম সেই সব চামচাদের। তারা লোকসমাজে,মিডিয়ায় এবং সংবাদপত্রে সমানভাবে বন্দনা করেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অমরত্বের দুর্লভ নির্মম কাহিণী।
তখন মিছে তাদের চোখের জল দেখে ঘৃণায় রিরি করেছে আমার মন। মিছে এই সং সাজার পিছনের কারণ হল নেত্রীকে খুশী করা।
তাদের একেকজনের সাহিত্যের পাতা বাংলা একাডেমিতে স্থান পেয়েছে বছরের সেরা প্রবন্ধ হিসেবে। অথচ আমার জানামতে বঙ্গবন্ধু ধোয়া তুলসী পাতা জাতীয় কিছু নন। যাক,মৃত মানুষ সম্পর্কে মন্তব্য করতে নেই। তবে শেখ হাসিনা যে দুটি কথা বলেছেন তা আমার কাছে খুবই ভাল লেগেছে।
এক,”কোন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়,একজন সাধারণ কন্যা হিসেবে পিতার সোহাগ হতে বঞ্চিতকারী খুনীদের শাস্তির প্রত্যাশা করেছি আমি।”
দুই,”আওয়ামী লীগে কোন দল পরিবর্তনকারীদের স্থান হবে না।”
দুই নম্বর পয়েন্টটি আমার পূর্বের সমস্ত কথার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথেষ্ট কিনা তা ভেবে দেখতে সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।
আমরা জানি,বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর খুনীদের বিচার হয়েছে। এখন এটা ঠিক যে যারা হত্যা করেছেন তারা সকলেই চরম শাস্তির যোগ্য। কিন্তু পৃথিবীতে কেউ যত পাপই করুক,কোন মানুষের কি পাপের দরুণ মৃত্যুকে বরণ করার পরেও জুতার মার খাওয়ার প্রয়োজন আছে?
ঠিক সে কাজটি হয়েছে আসামীদের মৃত্যুদন্ডের পর। এরপর আবার সেই সব সাংবাদিক,লেখক,পুলিশ আর নেতাদের নানা শ্রেণীবিভাগ (যারা চামচাদের অন্তর্গত) দাবি করছে যে জাতি আজ কলঙ্ক মুক্ত।
কিন্তু আমি দিব্য দৃষ্টিতে বলুন আর আসল দৃষ্টিতেই বলুন দেখতে পাচ্ছি যে জাতি আজ থেকে কলঙ্ক যুক্ত হ্ল।
কারণ রাজনৈতিক অপরাধ শুধু বাংলাদেশে নয়,পৃথিবীর আরো অনেক দেশেই দেদার হচ্ছে। তাই বলে শাস্তি প্রদানপূর্বক মৃত্যুর পর তাদের কবরে পৌছার আগে পুনরায় জুতা মেরে গরু দান করার মত দৃষ্টান্ত মনে হয় একেবারেই বিরল!!
এত সব ঘটনা নিয়েই আমরা অনেক ব্যস্ত আছি,তাই চামচারা যা বলে তাতেই আমাদের হৃদয়ক্ষরণ শুরু হয়,জানিনা কবে এই অবস্থা বন্ধ হয়ে আমাদের নেত্রীদের চোখের তারা খুলবে।
আন্তর্জাতিক পুরুষ নির্যাতন দিবস-২০১০!
আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা শুধু মাত্র অসামাজিকই নয়,বরং সমাজের কিছু বিকৃতিপূর্ণ কুরুচি মার্কা মানুষের অস্থির পরিকল্পনা। তাদের জীবনে এ সমস্ত অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠান কিংবা সেমিনার ছাড়া আর কিছুই বোধহয় করার নেই।
নারীদের এমনিতেই ইসলাম প্রয়োজনীয় অনুপাতে অধিকার এবং ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে। তাদের জন্য আবার নতুন করে দিবস পালন করা অথবা ঘটা করে তাদের নিয়ে অধিকারের নামে ফ্যাচফ্যাচ করার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না। এ সমস্ত কিছুকে ভন্ডামী-পাগলামী ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই। নারীদের অধিকার এবং ক্ষমতা যে কতখানি বিস্তৃত হয়েছে তা আমরা মুক্ত বিশ্বের দিকে তাকালেই বুঝতে পারব।
উদাহরণস্বরুপঃ আজকাল টিভি মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপস্থাপনাযোগ্য অনুষ্ঠান,ফ্যাশন,শোরুম কিংবা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরী নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বদাই নারীর জয়-জয়কার।
এ শুধু যে হলিউড-বলিউডেই ঘটছে তা নয়,বরং বাংলাদেশে তাকালেও এ দৃশ্য এখন অহরহ নজরে পড়বে। দেশের পত্র-পত্রিকাগুলো ফলাও করে নারীদের হাতে যাতে পুরুষের কতৃত্ব চলে যায় সে ব্যবস্থাও করছে। তারা নারীর অধিকারের নামে এমন সব দাবী করছে এবং পুরুষদের ব্যাক্তিত্ব তথা পুরুষত্ব পর্যন্ত পত্রিকাগুলো নারীদের অধিকারের সাথে ভুনা খিচুড়ির মত মিশিয়ে ফেলছে।
একটু জ্ঞানী এবং ভাবুক প্রকৃতির লোকেরা মনের জানালাটা খুলে ফেললেই দেখতে পাবেন নারীর দৌরাত্ব কতদূর পর্যন্ত যেয়ে ঠেকেছে।
নিচ থেকেই শুরু করি- এখন এলাকার অলিগলির মুদি দোকানগুলোতে কাস্টমার বেশী হওয়ার জন্য নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। এ তেমন নতুন ঘটনা নয়,অন্তত ঢাকাবাসীদের জন্য।
বিভিন্ন ভোজ্য পণ্যের কোম্পানীগুলো (যেমন-ফ্রেশ,প্রাণ,হারপিক,অলিম্পিক,আল-আমিন ইত্যাদি) তাদের পণ্যের সাথে দোকানে দোকানে পুরুষ সাপ্লাইয়ারদের পরিবর্তে অল্প বয়সী নারীদের পাঠায়।
বাসা-বাড়িতে যে সমস্ত সরকারী কাজের জন্য মানুষ পাঠানো হয় তার অধিকাংশ নারীরাই হয়ে থাকে।
বিভিন্ন এনজিও সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা,সেমিনার সার্ভিস,গ্রামীণ প্রজেক্ট ইত্যাদি সমস্ত কাজে পুরুষের চেয়ে নারীদের গুরুত্ব দেয়।
বিভিন্ন ধান্দা মার্কা প্রতিষ্ঠান যথা- ডেসটিনি-২০০০লিঃ,নিউ ওয়ে,ই-লিঙ্ক,পার্ট টাইম জবের নিয়োগ প্রভৃতি সমস্ত কাজে নারী ছাড়া কোম্পানীগুলো একেবারে বাচ্চার মত অসহায়।
কারণ পুরুষরা কাউকে যদি চাপাবাজি করে কোন কিছু করাতে চায়,তাহলে তা কেউ শুনেনা। এমনকি নারীরাও না।
কিন্তু নারীরা সহজেই মিষ্টি কথা দিয়ে নিজের সমগোত্রীয় সহ পুরুষদেরকেও এসমস্ত ভুংচিভাংচি বুঝিয়ে কাজ আদায় করিয়ে নিতে পারে।
তাছাড়া এই মূহুর্তে আমাদের দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী আছেন। সুতরাং তিনি থাকার পরও যদি নারী দিবস পালন করে শোক প্রচারের মত করে নারীদের অধিকার আদায়ের জোর নির্মম প্রচেষ্টা চালানো হয়,তাহলে তা নিতান্ত দুঃখের বিষয় বটে।
আমাদের চিন্তা-চেতনায় এমনভাবে নারীরা আটকে গেছে যে আমরা তাদের নির্মমতা দেখেও তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি। এ আমাদের সমাজের পুরুষের মহানুভুবতা ছাড়া কিছুই নয়।
সুতরাং এ সমস্ত বিষয় বোঝার পরও যে সমস্ত পুরুষ নারী দিবসের জন্য বুক চাপড়ে মরে তাদের আত্নার প্রতি শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করছি। তাদের মাথায় কিছু আছে কিনা তাতে আমার শুধু দ্বিধাই নয়,বরং ঘোর সন্দেহ আছে।
তাদের উচিত পুরুষদের নিয়ে চিন্তা করা। আজকাল আমাদের সমাজের অবস্থা দেখে হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। কারণ কোন ভদ্র পুরুষও যদি কোন বাড়ি অথবা গাড়ির সামনে কোন প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাহলে সেগুলোর মালিক কিছুক্ষণ পরই ভয়ে বাড়ি-গাড়ির দরজা বন্ধ করে নিজের সম্পদের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেন। ভাবেন এ লোক বুঝি ডাকাত কিংবা চোর।
অথচ কোন নারী দাঁড়িয়ে থাকলে তারা মনে মনে শুরুতেই ভাবেন- “আহারে! ভদ্রমহিলা একাকি এখানে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন। নিশ্চয়ই তাঁর কোন সমস্যা হয়েছে।”
পুরুষদের জন্য আঁতকে উঠার মত খবর আরো আছে। ৭ই মার্চ প্রথম আলো,সমকাল অথবা ইত্তেফাক পত্রিকা (আমার সঠিক মনে নেই) ভয়ঙ্কর একটা খবর বের করেছে। তা হল “নারীদেরও পুরুষের সমান সম্পত্তিতে ভাগ দিতে হবে।”
এখন আপনারাই বলুন এ দাবী কি যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক?
ইসলাম মেয়েদের সম্পদ দেওয়ার জন্য যে সাম্যতা সৃষ্টি করেছে তা খন্ডনের অধিকার কি তারা রাখে?
নারী কোন যুক্তিতে পুরুষের সমান সম্পদ পাবে?
নারীরাতো বিয়ের পর পুরুষের ঘরে চলে যায়। সে যদি যাওয়ার সময় তার নিজের ভাইয়ের সম্পদের অর্ধেক কামড়ে ধরে নিয়ে যায়,তাহলে ওই পুরুষের সম্পদের ভাগ তো অনেক কমে গেল।
একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে,সম্পদ কামাই করতে পুরুষের কষ্ট হয়। তার থেকে বড় অংশ যদি নারীরা নিয়ে যায় তাহলে সেই পুরুষকে জীবনে একটু অতিরিক্ত খাটনি করতে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
অথচ ইসলাম বলে নারী যেহেতু বিয়ের পর স্বামীর হেফাজতে চলে যাবে,সেহেতু তার তেমন সম্পদ নেওয়ার দরকার নেই। কারণ তার জন্য স্বামী মহোদয় সব কিছুতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেটা সম্পদ হোক,কিংবা সম্মান হোক। স্বামীর অর্ধেকটা নারীরাই পায়। তাই দুই দিক থেকেই নারীরা ভোগ করবে। অথচ পুরুষ মহোদয় ভোগ করবে শুধু মাত্র উত্তরাধিকার থেকে। এ নিশ্চয়ই পুরুষের জন্য সুখকর হবে না।
এ অবস্থা দেখেও কি ওই সমস্ত পুরুষদের হুশ হয় না।
সমস্যা আরেকটা আছে। সেটা হল পুরুষের কোন প্রতিভা থাকলে টাকার অভাবে তার বিকাশ ঘটেনা মিডিয়া অথবা বিশ্বজগতে।
অন্যদিকে নারীর কোন প্রতিভা থাকলে তা বিকশিত হতে মোটেও দেরী হয়না। কারণ নারীর অনেক কিছু আছে,যেটা পুরুষের নেই। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। পুরুষ দিবস এখন থেকে পালিত হবে প্রতি বছর ৮ই মার্চ,নারী দিবসের প্রতিবাদ জানিয়ে তার সাথে পাল্লা দিয়ে। কারণ নারীদের জন্য এখন পুরুষ অনেক কিছু করে ফেলেছে।
এখন সময় এসেছে নিজেদের জন্য কিছু করার।
মোঃ আরাফাত হোসেন
মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।
নারীদের এমনিতেই ইসলাম প্রয়োজনীয় অনুপাতে অধিকার এবং ক্ষমতা দিয়ে দিয়েছে। তাদের জন্য আবার নতুন করে দিবস পালন করা অথবা ঘটা করে তাদের নিয়ে অধিকারের নামে ফ্যাচফ্যাচ করার কোন দরকার আছে বলে মনে হয় না। এ সমস্ত কিছুকে ভন্ডামী-পাগলামী ছাড়া অন্য কিছু ভাবার অবকাশ নেই। নারীদের অধিকার এবং ক্ষমতা যে কতখানি বিস্তৃত হয়েছে তা আমরা মুক্ত বিশ্বের দিকে তাকালেই বুঝতে পারব।
উদাহরণস্বরুপঃ আজকাল টিভি মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন উপস্থাপনাযোগ্য অনুষ্ঠান,ফ্যাশন,শোরুম কিংবা বড় বড় ইন্ডাস্ট্রিতে চাকরী নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বদাই নারীর জয়-জয়কার।
এ শুধু যে হলিউড-বলিউডেই ঘটছে তা নয়,বরং বাংলাদেশে তাকালেও এ দৃশ্য এখন অহরহ নজরে পড়বে। দেশের পত্র-পত্রিকাগুলো ফলাও করে নারীদের হাতে যাতে পুরুষের কতৃত্ব চলে যায় সে ব্যবস্থাও করছে। তারা নারীর অধিকারের নামে এমন সব দাবী করছে এবং পুরুষদের ব্যাক্তিত্ব তথা পুরুষত্ব পর্যন্ত পত্রিকাগুলো নারীদের অধিকারের সাথে ভুনা খিচুড়ির মত মিশিয়ে ফেলছে।
একটু জ্ঞানী এবং ভাবুক প্রকৃতির লোকেরা মনের জানালাটা খুলে ফেললেই দেখতে পাবেন নারীর দৌরাত্ব কতদূর পর্যন্ত যেয়ে ঠেকেছে।
নিচ থেকেই শুরু করি- এখন এলাকার অলিগলির মুদি দোকানগুলোতে কাস্টমার বেশী হওয়ার জন্য নারীদের নিয়োগ দেয়া হয়। এ তেমন নতুন ঘটনা নয়,অন্তত ঢাকাবাসীদের জন্য।
বিভিন্ন ভোজ্য পণ্যের কোম্পানীগুলো (যেমন-ফ্রেশ,প্রাণ,হারপিক,অলিম্পিক,আল-আমিন ইত্যাদি) তাদের পণ্যের সাথে দোকানে দোকানে পুরুষ সাপ্লাইয়ারদের পরিবর্তে অল্প বয়সী নারীদের পাঠায়।
বাসা-বাড়িতে যে সমস্ত সরকারী কাজের জন্য মানুষ পাঠানো হয় তার অধিকাংশ নারীরাই হয়ে থাকে।
বিভিন্ন এনজিও সরকারী কিংবা বেসরকারী প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্যসেবা,সেমিনার সার্ভিস,গ্রামীণ প্রজেক্ট ইত্যাদি সমস্ত কাজে পুরুষের চেয়ে নারীদের গুরুত্ব দেয়।
বিভিন্ন ধান্দা মার্কা প্রতিষ্ঠান যথা- ডেসটিনি-২০০০লিঃ,নিউ ওয়ে,ই-লিঙ্ক,পার্ট টাইম জবের নিয়োগ প্রভৃতি সমস্ত কাজে নারী ছাড়া কোম্পানীগুলো একেবারে বাচ্চার মত অসহায়।
কারণ পুরুষরা কাউকে যদি চাপাবাজি করে কোন কিছু করাতে চায়,তাহলে তা কেউ শুনেনা। এমনকি নারীরাও না।
কিন্তু নারীরা সহজেই মিষ্টি কথা দিয়ে নিজের সমগোত্রীয় সহ পুরুষদেরকেও এসমস্ত ভুংচিভাংচি বুঝিয়ে কাজ আদায় করিয়ে নিতে পারে।
তাছাড়া এই মূহুর্তে আমাদের দেশে নারী প্রধানমন্ত্রী আছেন। সুতরাং তিনি থাকার পরও যদি নারী দিবস পালন করে শোক প্রচারের মত করে নারীদের অধিকার আদায়ের জোর নির্মম প্রচেষ্টা চালানো হয়,তাহলে তা নিতান্ত দুঃখের বিষয় বটে।
আমাদের চিন্তা-চেতনায় এমনভাবে নারীরা আটকে গেছে যে আমরা তাদের নির্মমতা দেখেও তাদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করি। এ আমাদের সমাজের পুরুষের মহানুভুবতা ছাড়া কিছুই নয়।
সুতরাং এ সমস্ত বিষয় বোঝার পরও যে সমস্ত পুরুষ নারী দিবসের জন্য বুক চাপড়ে মরে তাদের আত্নার প্রতি শ্রদ্ধার অর্ঘ্য নিবেদন করছি। তাদের মাথায় কিছু আছে কিনা তাতে আমার শুধু দ্বিধাই নয়,বরং ঘোর সন্দেহ আছে।
তাদের উচিত পুরুষদের নিয়ে চিন্তা করা। আজকাল আমাদের সমাজের অবস্থা দেখে হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না। কারণ কোন ভদ্র পুরুষও যদি কোন বাড়ি অথবা গাড়ির সামনে কোন প্রয়োজনে দাঁড়িয়ে থাকেন। তাহলে সেগুলোর মালিক কিছুক্ষণ পরই ভয়ে বাড়ি-গাড়ির দরজা বন্ধ করে নিজের সম্পদের চিন্তায় অস্থির হয়ে উঠেন। ভাবেন এ লোক বুঝি ডাকাত কিংবা চোর।
অথচ কোন নারী দাঁড়িয়ে থাকলে তারা মনে মনে শুরুতেই ভাবেন- “আহারে! ভদ্রমহিলা একাকি এখানে কষ্ট করে দাঁড়িয়ে আছেন। নিশ্চয়ই তাঁর কোন সমস্যা হয়েছে।”
পুরুষদের জন্য আঁতকে উঠার মত খবর আরো আছে। ৭ই মার্চ প্রথম আলো,সমকাল অথবা ইত্তেফাক পত্রিকা (আমার সঠিক মনে নেই) ভয়ঙ্কর একটা খবর বের করেছে। তা হল “নারীদেরও পুরুষের সমান সম্পত্তিতে ভাগ দিতে হবে।”
এখন আপনারাই বলুন এ দাবী কি যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক?
ইসলাম মেয়েদের সম্পদ দেওয়ার জন্য যে সাম্যতা সৃষ্টি করেছে তা খন্ডনের অধিকার কি তারা রাখে?
নারী কোন যুক্তিতে পুরুষের সমান সম্পদ পাবে?
নারীরাতো বিয়ের পর পুরুষের ঘরে চলে যায়। সে যদি যাওয়ার সময় তার নিজের ভাইয়ের সম্পদের অর্ধেক কামড়ে ধরে নিয়ে যায়,তাহলে ওই পুরুষের সম্পদের ভাগ তো অনেক কমে গেল।
একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে,সম্পদ কামাই করতে পুরুষের কষ্ট হয়। তার থেকে বড় অংশ যদি নারীরা নিয়ে যায় তাহলে সেই পুরুষকে জীবনে একটু অতিরিক্ত খাটনি করতে হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।
অথচ ইসলাম বলে নারী যেহেতু বিয়ের পর স্বামীর হেফাজতে চলে যাবে,সেহেতু তার তেমন সম্পদ নেওয়ার দরকার নেই। কারণ তার জন্য স্বামী মহোদয় সব কিছুতে সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সেটা সম্পদ হোক,কিংবা সম্মান হোক। স্বামীর অর্ধেকটা নারীরাই পায়। তাই দুই দিক থেকেই নারীরা ভোগ করবে। অথচ পুরুষ মহোদয় ভোগ করবে শুধু মাত্র উত্তরাধিকার থেকে। এ নিশ্চয়ই পুরুষের জন্য সুখকর হবে না।
এ অবস্থা দেখেও কি ওই সমস্ত পুরুষদের হুশ হয় না।
সমস্যা আরেকটা আছে। সেটা হল পুরুষের কোন প্রতিভা থাকলে টাকার অভাবে তার বিকাশ ঘটেনা মিডিয়া অথবা বিশ্বজগতে।
অন্যদিকে নারীর কোন প্রতিভা থাকলে তা বিকশিত হতে মোটেও দেরী হয়না। কারণ নারীর অনেক কিছু আছে,যেটা পুরুষের নেই। এ অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। পুরুষ দিবস এখন থেকে পালিত হবে প্রতি বছর ৮ই মার্চ,নারী দিবসের প্রতিবাদ জানিয়ে তার সাথে পাল্লা দিয়ে। কারণ নারীদের জন্য এখন পুরুষ অনেক কিছু করে ফেলেছে।
এখন সময় এসেছে নিজেদের জন্য কিছু করার।
মোঃ আরাফাত হোসেন
মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।
ওরা আওয়ামীলীগ করে না,তাই কিছু বললেই মারে!
এতদিন ছোট ছিলাম,তাই রাজনীতির ক্ষমতা কি জিনিস তা বুঝতাম না। সেদিনের ঘটনার পর সব বুঝে গেছি।
সেদিন আমার এক বন্ধুসহ গিয়েছিলাম পাইকপাড়ার রুনু আক্তার কমিশনারের বাড়িতে। একটা চারিত্রিক সনদ দরকার ছিল আমার বন্ধুর।
আমরা যেয়ে দেখি বেশ কিছু মানুষ বসে আছে সেখানে। তারা সবাই কমিশনারের একটি সাইন নেওয়ার জন্য বসে আছে।
কিন্তু কমিশনারের কি আর ক্ষমতা,তার চেয়ে বেশী ক্ষমতা বোধহয় যাকে দায়িত্ব দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে সেই তৃতীয় শ্রেণীর লোকটার। যার কাজ শুধু লোকের কাগজ-পত্র কিংবা জরুরী সনদ কমিশনারের কাছে পৌছে দেওয়া।
সে গরীব এবং অশিক্ষিত লোকদের দিকে এমনভাবে তাকাল যেন তারা মানুষ নয়। তাদের সনদ দিতে অযথাই দেরী করিয়ে রাখল। আমি নিজেও অস্থিরভাবে অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিন্তু লোকটা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তার পরিচিত যারা আছে তাদের সময় দিতে লাগল। একজন মহিলা এল এ সময়,তাকে দেখেই সেই কমিশনারের নিয়োগ করা লোকটা লাফিয়ে উঠে সালাম জানাল।
কি খাবেন সেই মহিলা কিংবা মহিলার কি লাগবে তার জন্য লোকটা ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল। কিন্তু মহিলাকে দেখে মনে হল সে ওই লোকটাকে মোটেও পাত্তা দেয় না।
সবাই যেখানে অনুরোধ করে নিজের কাজ আদায় করে নিচ্ছে সেখানে সেই মহিলা অনুরোধ নয় আদেশ করল। লোকটা অনুগত কুকুরের মত মহিলার সেই কাজ করে দিল।
পরে শুনলাম মহিলা নাকি কমিশনারের খুব কাছের মানুষ।
মহিলা চলে যাওয়ার পর লোকটা আমার দিকে তাকাল। কি লাগবে জিজ্ঞ্যেস করতে বললাম যে চারিত্রিক সনদ। সে ঠিকানা জানতে চাইলে তাকে বললাম,
-৩৭/২,সি/১,সালেমউদ্দিন মার্কেট,মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।
শুনে লোকটা ধমকে উঠল।
-ধুরো! সালেমউদ্দিন মার্কেট কি কোন জায়গার নাম হল?
-জ্বি আঙ্কেল,ওই দশতলা গার্মেন্টসের সামনের বাড়িটাই।
জবাব দিলাম আমি।
-যাও ভাগো এহানতে। (বিরক্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করে উঠল) আমি কই জায়গার নাম কি,আর তুমি কও গার্মেন্টসের সামনে। আমি কি তোমারে গার্মেন্টসের কথা জিজ্ঞাইছি? জায়গার নাম কইতে পার না আবার আইছ চারিত্রিক সনদ নিতে।
অপমানের সুরে বলে উঠল লোকটা। আমি বললাম,
-দেখুন আঙ্কেল,আমরা ছোট মানুষ,আপনারা মুরুব্বী,আপনারা যদি আমাদের শিখিয়ে না দেন,তাহলে আমরা কি করে জানব?
-চোপ, এত কথা বল ক্যান? এহন কইলাম চারিত্রিক সনদ আটকাইয়া রাখমু। এই পুরাডাইতো সালেমউদ্দিন মার্কেট। এহন কি আমি কমিশনার আপার বাড়ি সালেমউদ্দিন মার্কেটে পড়ছে কমু।
আমি বলতে নিলাম ওই ভাগের পুরোটাই তো শাহ আলীবাগে পড়েছে,তাহলে তো অন্য কোন জায়গাকেও শাহ আলীবাগ বলা যায়। কিন্তু আমি আর জবাব দিলাম না। ওদের কাছে আমি,আমরা সবাই জিম্মি। মজার ব্যপার হল ক্ষমতায় নেই ওরা,কারণ ওরা বিএনপি।
অথচ ক্ষমতায় না থেকেও যে ধরণের গায়ে পড়ে চামারের আচরণ করে এরা তা দেখে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই!
এখন আওয়ামীলীগ সরকার নয়,তবুও ওদের কি দাপট!
এক লোক এল লুঙ্গি পড়া। যাকে দেখেই বোঝা যায় সে খুব গরীব ঘরের লোক।
কমিশনারের সেই লোকটা শুধু শুধু সেই গরীব লোকটাকে বিভিন্ন বকা মিশ্রিত উপদেশ ঝাড়তে লাগল।
অথচ কি আশ্চর্য! এই সব লোকের ভোট এবং পরিশ্রমের ফসল খেয়ে আজ তারা টাকার পাহাড় বানিয়েছে। সে কথা মনে হয় কস্মিনকালেও স্বীকার করতে চাইবে না তারা।
আরেকটা কথা মনে পড়ছে আমার। এ কথা হল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির পাগলামী নিয়ে।
একদিকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই আমাদের এলাকার যত বিএনপির স্বল্প ক্ষমতার লোকজন ছিল তাদের ইচ্ছে মত মেরে চার বছরের জ্বালাতনের ঝাল তুলেছে। রাম দা,বটি এমন কি রিভলবার নিয়ে পর্যন্ত আওয়ামীলীগের কর্মীরা বিএনপির কর্মীদের মারতে তেড়ে গেছে।
নেতাদের প্রশ্ন করা হলে তারা জবাব দেন যে এটা আওয়ামীলীগের ক্ষতি সাধন করতে চাওয়া কিছু অসাধু দুমুখো মানুষের কার্যক্রম। কখনোই তাঁরা নিজের ঘাড়ে দোষটা স্বীকার করে নেন না।
এরপর এল দেশের বড় বড় যত স্থাপত্য আছে সেগুলো নিয়ে লাফালাফি।
প্রধানমন্ত্রী নিজে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন করলেন,লোকে যাতে কিছু বলতে না পারে সে জন্য শেখ মুজিবের নামে না দিয়ে দিলেন সুফি সাধকদের নামে।
এছাড়া আমাদের মিরপুর সনি হলের সামনে একটা জিয়ার প্রতিকৃতি সম্বলিত চত্বর ছিল। সেটার নাম পরিবর্তন করে এখন স্বাধীনতার চত্বর করা হয়েছে। সন্দেহ নেই লোকে ভাববে,ভালই তো। এখন সুন্দর হয়েছে।
মূলত এসব করা হয়েছে যাতে কোন কিছুতে বিএনপির নাম না থাকে।
কিন্তু একটা কথা হল যে নামে কোন কিছু আসে যায় না। বরং সেই নামের স্বার্থকতার চেয়ে তার যে সেবার কার্যক্রম তা থেকে মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে কিংবা কি রকম সেবা পাচ্ছে,তা হল মূল কথা।
এই গেল আওয়ামীলীগের কথা। এবার বিএনপির কথায় আসি। ৭ই মার্চ তারেক রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাই এখন থেকে ৭ই মার্চ তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিএনপির জন্য।
এ ব্যপারে আমি বলতে চাই খুব সামান্য কথা। ধরুণ, এখন আমার অনেক টাকা এবং ক্ষমতা আছে। ঘুষের টাকা খেয়ে আমার ডায়রিয়া,আর তার সাথে অনেক পাতলা পায়খানা হল। তো সেই পাতলা পায়খানা ৭ই মার্চ হঠাৎ করে আল্লাহর মর্জিতে ভাল হয়ে গেল।
তাহলে তো আমি প্রতিবছর ৭ই মার্চ এ আরাফাত হোসেনের ডায়রিয়া এবং পাতলা পায়খানা মুক্তি দিবস হিসেবে পালন করতে পারি?
কি বলেন!
আর শিবিরের কথা নাই বললাম। তারা যা বলে সব ইসলামের আলোকে বলে থাকে, এ কথাটি আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তাদের কাছে কোন দোষ ধরা পড়লে যাকে তাকে ধরে গলার-পায়ের রগ কেটে ফেলা এসব নিশ্চয়ই ইসলামে আদেশ করেনি।
সুতরাং যারা ইসলামের গুণগান করে আবার সেই ইসলামকেই পায়ের নিচে পিষে ধরে,তাদের কথা জনগণের শুনার কোন দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
আমাদের দেশের হচ্ছে এই অবস্থা। কোথায় কোন সমস্যা রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে সমাধান করবে, তা না করে বরং সেই সমস্যা থেকে আরো হাজারটা সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাও দলীয় কোন্দল নিয়ে। একদিন যে মরে গিয়ে এই পৃথিবীর মাটির নিচে চলে যেতে হবে তা এরা বুঝে বুঝতে চায় না। এ কারণে দেশের ততটা ডেভেলপ হচ্ছে না।
সেদিন আমার এক বন্ধুসহ গিয়েছিলাম পাইকপাড়ার রুনু আক্তার কমিশনারের বাড়িতে। একটা চারিত্রিক সনদ দরকার ছিল আমার বন্ধুর।
আমরা যেয়ে দেখি বেশ কিছু মানুষ বসে আছে সেখানে। তারা সবাই কমিশনারের একটি সাইন নেওয়ার জন্য বসে আছে।
কিন্তু কমিশনারের কি আর ক্ষমতা,তার চেয়ে বেশী ক্ষমতা বোধহয় যাকে দায়িত্ব দিয়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে সেই তৃতীয় শ্রেণীর লোকটার। যার কাজ শুধু লোকের কাগজ-পত্র কিংবা জরুরী সনদ কমিশনারের কাছে পৌছে দেওয়া।
সে গরীব এবং অশিক্ষিত লোকদের দিকে এমনভাবে তাকাল যেন তারা মানুষ নয়। তাদের সনদ দিতে অযথাই দেরী করিয়ে রাখল। আমি নিজেও অস্থিরভাবে অপেক্ষা করতে লাগলাম। কিন্তু লোকটা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তার পরিচিত যারা আছে তাদের সময় দিতে লাগল। একজন মহিলা এল এ সময়,তাকে দেখেই সেই কমিশনারের নিয়োগ করা লোকটা লাফিয়ে উঠে সালাম জানাল।
কি খাবেন সেই মহিলা কিংবা মহিলার কি লাগবে তার জন্য লোকটা ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল। কিন্তু মহিলাকে দেখে মনে হল সে ওই লোকটাকে মোটেও পাত্তা দেয় না।
সবাই যেখানে অনুরোধ করে নিজের কাজ আদায় করে নিচ্ছে সেখানে সেই মহিলা অনুরোধ নয় আদেশ করল। লোকটা অনুগত কুকুরের মত মহিলার সেই কাজ করে দিল।
পরে শুনলাম মহিলা নাকি কমিশনারের খুব কাছের মানুষ।
মহিলা চলে যাওয়ার পর লোকটা আমার দিকে তাকাল। কি লাগবে জিজ্ঞ্যেস করতে বললাম যে চারিত্রিক সনদ। সে ঠিকানা জানতে চাইলে তাকে বললাম,
-৩৭/২,সি/১,সালেমউদ্দিন মার্কেট,মিরপুর-১,ঢাকা-১২১৬।
শুনে লোকটা ধমকে উঠল।
-ধুরো! সালেমউদ্দিন মার্কেট কি কোন জায়গার নাম হল?
-জ্বি আঙ্কেল,ওই দশতলা গার্মেন্টসের সামনের বাড়িটাই।
জবাব দিলাম আমি।
-যাও ভাগো এহানতে। (বিরক্ত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে ঘেউ ঘেউ করে উঠল) আমি কই জায়গার নাম কি,আর তুমি কও গার্মেন্টসের সামনে। আমি কি তোমারে গার্মেন্টসের কথা জিজ্ঞাইছি? জায়গার নাম কইতে পার না আবার আইছ চারিত্রিক সনদ নিতে।
অপমানের সুরে বলে উঠল লোকটা। আমি বললাম,
-দেখুন আঙ্কেল,আমরা ছোট মানুষ,আপনারা মুরুব্বী,আপনারা যদি আমাদের শিখিয়ে না দেন,তাহলে আমরা কি করে জানব?
-চোপ, এত কথা বল ক্যান? এহন কইলাম চারিত্রিক সনদ আটকাইয়া রাখমু। এই পুরাডাইতো সালেমউদ্দিন মার্কেট। এহন কি আমি কমিশনার আপার বাড়ি সালেমউদ্দিন মার্কেটে পড়ছে কমু।
আমি বলতে নিলাম ওই ভাগের পুরোটাই তো শাহ আলীবাগে পড়েছে,তাহলে তো অন্য কোন জায়গাকেও শাহ আলীবাগ বলা যায়। কিন্তু আমি আর জবাব দিলাম না। ওদের কাছে আমি,আমরা সবাই জিম্মি। মজার ব্যপার হল ক্ষমতায় নেই ওরা,কারণ ওরা বিএনপি।
অথচ ক্ষমতায় না থেকেও যে ধরণের গায়ে পড়ে চামারের আচরণ করে এরা তা দেখে আমি বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যাই!
এখন আওয়ামীলীগ সরকার নয়,তবুও ওদের কি দাপট!
এক লোক এল লুঙ্গি পড়া। যাকে দেখেই বোঝা যায় সে খুব গরীব ঘরের লোক।
কমিশনারের সেই লোকটা শুধু শুধু সেই গরীব লোকটাকে বিভিন্ন বকা মিশ্রিত উপদেশ ঝাড়তে লাগল।
অথচ কি আশ্চর্য! এই সব লোকের ভোট এবং পরিশ্রমের ফসল খেয়ে আজ তারা টাকার পাহাড় বানিয়েছে। সে কথা মনে হয় কস্মিনকালেও স্বীকার করতে চাইবে না তারা।
আরেকটা কথা মনে পড়ছে আমার। এ কথা হল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির পাগলামী নিয়ে।
একদিকে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেই আমাদের এলাকার যত বিএনপির স্বল্প ক্ষমতার লোকজন ছিল তাদের ইচ্ছে মত মেরে চার বছরের জ্বালাতনের ঝাল তুলেছে। রাম দা,বটি এমন কি রিভলবার নিয়ে পর্যন্ত আওয়ামীলীগের কর্মীরা বিএনপির কর্মীদের মারতে তেড়ে গেছে।
নেতাদের প্রশ্ন করা হলে তারা জবাব দেন যে এটা আওয়ামীলীগের ক্ষতি সাধন করতে চাওয়া কিছু অসাধু দুমুখো মানুষের কার্যক্রম। কখনোই তাঁরা নিজের ঘাড়ে দোষটা স্বীকার করে নেন না।
এরপর এল দেশের বড় বড় যত স্থাপত্য আছে সেগুলো নিয়ে লাফালাফি।
প্রধানমন্ত্রী নিজে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন করলেন,লোকে যাতে কিছু বলতে না পারে সে জন্য শেখ মুজিবের নামে না দিয়ে দিলেন সুফি সাধকদের নামে।
এছাড়া আমাদের মিরপুর সনি হলের সামনে একটা জিয়ার প্রতিকৃতি সম্বলিত চত্বর ছিল। সেটার নাম পরিবর্তন করে এখন স্বাধীনতার চত্বর করা হয়েছে। সন্দেহ নেই লোকে ভাববে,ভালই তো। এখন সুন্দর হয়েছে।
মূলত এসব করা হয়েছে যাতে কোন কিছুতে বিএনপির নাম না থাকে।
কিন্তু একটা কথা হল যে নামে কোন কিছু আসে যায় না। বরং সেই নামের স্বার্থকতার চেয়ে তার যে সেবার কার্যক্রম তা থেকে মানুষ কতটুকু উপকৃত হচ্ছে কিংবা কি রকম সেবা পাচ্ছে,তা হল মূল কথা।
এই গেল আওয়ামীলীগের কথা। এবার বিএনপির কথায় আসি। ৭ই মার্চ তারেক রহমান কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাই এখন থেকে ৭ই মার্চ তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবস পালনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বিএনপির জন্য।
এ ব্যপারে আমি বলতে চাই খুব সামান্য কথা। ধরুণ, এখন আমার অনেক টাকা এবং ক্ষমতা আছে। ঘুষের টাকা খেয়ে আমার ডায়রিয়া,আর তার সাথে অনেক পাতলা পায়খানা হল। তো সেই পাতলা পায়খানা ৭ই মার্চ হঠাৎ করে আল্লাহর মর্জিতে ভাল হয়ে গেল।
তাহলে তো আমি প্রতিবছর ৭ই মার্চ এ আরাফাত হোসেনের ডায়রিয়া এবং পাতলা পায়খানা মুক্তি দিবস হিসেবে পালন করতে পারি?
কি বলেন!
আর শিবিরের কথা নাই বললাম। তারা যা বলে সব ইসলামের আলোকে বলে থাকে, এ কথাটি আমি অস্বীকার করি না। কিন্তু তাদের কাছে কোন দোষ ধরা পড়লে যাকে তাকে ধরে গলার-পায়ের রগ কেটে ফেলা এসব নিশ্চয়ই ইসলামে আদেশ করেনি।
সুতরাং যারা ইসলামের গুণগান করে আবার সেই ইসলামকেই পায়ের নিচে পিষে ধরে,তাদের কথা জনগণের শুনার কোন দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।
আমাদের দেশের হচ্ছে এই অবস্থা। কোথায় কোন সমস্যা রাজনৈতিক দলগুলো একত্রে সমাধান করবে, তা না করে বরং সেই সমস্যা থেকে আরো হাজারটা সমস্যা সৃষ্টি করবে। তাও দলীয় কোন্দল নিয়ে। একদিন যে মরে গিয়ে এই পৃথিবীর মাটির নিচে চলে যেতে হবে তা এরা বুঝে বুঝতে চায় না। এ কারণে দেশের ততটা ডেভেলপ হচ্ছে না।
পাগল জরিপ-২০১০ ইন ঢাকা সিটি!
আগে পাগল বলতে বুঝাত পুরুষ প্রজাতিকে, আর এখন তাদের বলা হয় পাগলা। আর মেয়েদের খ্যাতাবটা এখনো অপরিবর্তিত-ই আছে।
পাগলী!
সুতরাং পাগল হল এখন উভচর শব্দ,কিংবা উভয়লিঙ্গ শব্দ। যেমন-মানুষ একটি উভয়লিঙ্গ শব্দ।
মোটামুটি এই হল পাগল নামের পূর্ণ সমাচার।
এবার পাগলের সঙ্গায় আসি। যাদের মাথায় গন্ডগোল আছে,এক কথায় তারাই পাগল।
কিংবা যারা কল্পনার সাথে বাস্তবের যে পার্থক্য সেটা ধরতে পারে না,তাদের পাগল বলে।
অতীতে পাগল ছিল তারাই,যারা বনে-বাদে,ক্ষেত-ক্ষামারে, কিংবা হতে পারে বাজারে লোকের সামনে বিনা দ্বিধায় কাপড়-চোপড় খুলে দ্বিগম্বর হয়ে যেত, আর একা একা দেশের এমন সব কথা বলত যেগুলো বাস্তবায়িত হলে এক নিমিষে বাংলাদেশ আমেরিকার মত না হলেও ইন্ডিয়ার মত উন্নয়নশীল হয়ে যেত।
কালের বিবর্তনে পাগলদের প্রজাতির পরিবর্তন ঘটে। আস্তে আস্তে সেই পাগল লোকের গন্ডগোল সভ্য সমাজের মানুষের মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।
সভ্য মানুষগুলো এই বিজ্ঞানের আধুনিক যুগে এসে পুরোপুরি পাগলের খাতায় নাম লিখিয়েছে। তার প্রমাণ রাস্তাঘাটে ঘুরলেই দেখা যায়।
আমার এ প্রবন্ধে আমি ঢাকা শহরের বিশেষ কিছু জায়গার পাগলদের বর্ণনা দিব।
গুলিস্তানঃ
ঢাকা শহরের পাগলদের প্রধান আস্তানার মধ্যে গুলিস্তান একটি। এখানে সর্ব কিসিমের পাগল বাস করে। এই এলাকাটি ঢাকা শহরের শুরুতে হওয়ার কারণে এখানে উঁচু-নিচু উভয় স্তরের পাগলদের দেখতে পাওয়া যায়। নিচু স্তরের পুরুষ পাগলারা সাধারণত রাস্তাঘাটে ছিনতাই,চুরি কিংবা মারামারি করে। মাঝে মাঝে তারা গ্রুপ বেঁধে ডু অর ডাই মিশনে যায়। এদের লাইফে ভয় বলে কিছু নেই। এরা উঁচু স্তরের পাগলাদের শ্রদ্ধা করে।
উঁচু স্তরের পাগলারা নিচু স্তরের পাগলাদের সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে কাজ করায়। উঁচু স্তরের পাগলারা বড় বড় ধান্দা করে। যেমন- এলাকার উন্নয়নের নামে সরকারী টাকা আত্নসাৎ।
গুলিস্তান যেহেতু পুরোন ঢাকার পাশাপাশি,তাই এখানে অনেক মহিলা পাগলীও দেখতে পাওয়া যায়। এ সমস্ত পাগলীরা রাতের অন্ধকারে পাগলাদের সাথে রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। মাঝে পুলিশ নামের পাগলারা হুমতাম করে ধমক দেয়,কিন্তু তারাও পাগলীদের নিয়ে সুখ চরিতার্থ করে।
এছাড়া কিছু উঁচু স্তরের পাগলী আছে যারা পাগলাদের সাথে টাউটগিরি করে। এই সমস্ত পাগলীরা অনেক প্রতিভাশীল। এদের বুদ্ধির সাথে পাগলারা সহজে পেরে উঠে না।
গুলশান+ধানমন্ডিঃ
এ দুটি এলাকা এবং মতিঝিল,উত্তরা,বনানী প্রভৃতি প্রায় একই সিস্টেমের আওতায় পড়েছে। এখানের বেশীরভাগ পাগলারা ভিআইপি। তারা দিনের বেলা দামী গাড়িতে চড়ে মোটা ভূড়ি নিয়ে চাকরী নামের অকাজ করতে বের হয়ে পুরো ঢাকা শহরকে নিজেদের দেহ দ্বারা আচ্ছাদিত করে রাখে।
এদের পাগলামো একটু বৈচিত্র ধরণের। এরা সাধারণত যাত্রা পথে গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে এসির বাতাস খায়। মাঝে মাঝে যখন দুই-চারটা প্রকৃতির ছেলে (অসহায় বাপ-মা হীন) কিংবা জীবন যুদ্ধে পরাজীত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তাদের কাছে হাত পাততে যায়,তখন এই পাগলারা মুখ ঝামটা মারে। অনেকে আবার হেডে সেন্টিমেন্টাল প্রবলেমের কারণে অসহায় শিশুদের ধরে মারে। তবে আমি এখন পর্যন্ত কোন বয়স্ক ফকিরকে মারতে দেখিনি।
এইসব এলাকার পাগলীরা ভয়ঙ্কর রকমের তারছিড়া। এরা রাস্তাঘাটে,শপিং মলে,ফুড শপে কিংবা ডিজে পার্টিতে টাইট জামা পড়ে নিজের দেহের পাহাড় উন্মোচন করে পুরুষের ন্যায় জিন্টসের প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের সাথে অল্প বয়স্ক ছেলেরা কিংবা পাগলারা সহজে পেরে উঠে না। এরা অতি আধুনিকা পাগলী।
এরা চায় পুরো দেহ উন্মুক্ত করে দেখাতে,পাছে লোকে ভাবে এরা পুরোপুরি দ্বিগম্বর পাগলী হয়ে গেছে!
এই ভয়ে সেটা পারে না। তাই পাগলাদের চোখের সামনে নিজের দেহকে ঘরের শোকেসের মত সাজিয়ে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা করে। ডিজে পার্টিতে কোন পাগলা যদি এদেরকে কিছু বলে তাহলেই সর্বনাশ!
সেই হাফ পাগলাকে টোটালী ফুল পাগলা করে ছেড়ে দেবে এইসব ভয়ঙ্কর পাগলীরা।
তবে এদের মন খুব নরম। এরা যাকে ভালবাসে তার জন্য নিজের দেহের সম্পদ পুরোটাই দিয়ে দেয়। ভবিষ্যতের স্বামীর কথা চিন্তা করে না।
এদের চলাফেরার স্টাইল অদ্ভুত। এরা কখনো পুরুষের বেশে সেজে থাকে,কখনো বা গ্রাম বাংলার বধূর মত শাড়ি পড়ে। তবে তা নিতান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া পড়ে না বললেই চলে।
এই সমস্ত পাগলীরা নিজেদের দেহকে ছিড়ে ফুড়ে রাখতেও খুব ভালবাসে। যেমন- তারা প্রায়ই নাক ফুরানোর বদলে ভ্রু ফুরায়। কিংবা নিম্নাঙ্গে (যৌনাঙ্গ) আংটি পড়ে। এতে মনে হয় পাগলীদের মেডিটেশন বাড়ে!
এ ব্যপারে তারাই ভাল বলতে পারবে,যদি মাথায় গন্ডগোলের কারণে আমাকে কামড় দিতে না আসে তাহলেই হয়!
মিরপুরঃ
মিরপুর ঢাকা শহরের পাগলদের বিশেষ করে পাগলাদের অভয়াশ্রম। এর সবচেয়ে বড় অংশের পাগল থাকে মাজার এলাকা থেকে শুরু করে মিরপুর দশ পর্যন্ত। এর মধ্যে অন্তর্গত হয়েছে- পানির ট্যাঙ্কি,টোলারবাগ,পাইকপাড়া,পীরের বাগ, পুকুরপার ইত্যাদি প্রায় সবগুলো এরিয়া।
এখানকার পাগলদের অল্পতে মাথা গরম হয়ে যায়। তারা পথ শিশুদের ধরে ধরে কারণে-অকারণে মারে। এটা সম্ভবত তাদের একটা নেশা। এছাড়া মিরপুর এক নাম্বারের গ্রামীন ফোনের কাস্টমার কেয়ারের সামনে সন্ধ্যাকালীন সময়ে কিছু নিশিকন্যা দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের সাথে পুলিশ নামের পাগলা ট্রাফিকের অনেক ঘর্ষণ-সংঘর্ষ ঘটে। (মনের সংঘর্ষ)
মাঝে মাঝে এই সব নিশিকন্যাদের ধরে ধরে মাথা বেশী গরম পাগলারা আঘাত করে। নিশিকন্যাদের আঘাত করলে কেউ কিছু বলেনা তো তাই।
মাজার অংশের পরিবেশ আবার ভিন্ন। সেখানে হুজুর নামের কবিরাজ মার্কা পাগলারা জোকের তেল,খুজলির মলম এবং লিঙ্গের মালিশ নিয়ে বসে থাকে।
বেকুব সাধারন পাবলিকরা এই সব লেকচার শুনে আর ভাবে তাদের দাম্পত্য জীবন রাস্তার মাঝেই সুখি হয়ে যাবে। এই সব পাবলিকদের মাঝে কিছু আছে মাজারের পাগলা। এরা মাজারের বিশাল বটগাছকে প্রভু মনে করে সেজদা করে,তাতে ধুপ জ্বালায়।
ইসলাম ধর্মের অপমান আরকি।
মাজারের পীর কোম্পানীগুলো তো আরেক ফটকা। তারা ধ্যান করে গাঁজা খেয়ে। একে তারা বলে সিদ্ধি। প্রচলিত আছে- সিদ্ধি খাইলে বুদ্ধি বাড়ে।
এই এলাকার পাগলীদের প্রধান দুষ্ট স্বভাব হল গাধা কিসিমের পাগলা ছেলেদের ধরে ডেটিং-এ যাওয়ার নাম করে পকেট থেকে পৈত্রিক সম্পদ যতদূর সম্ভব কাচিয়ে বের করা। এ ক্ষেত্রে যার যতদূর ইমপ্রেস করার ক্ষমতা সে তত বেশী কামিয়ে নিচ্ছে।
তবে এখানকার কিছু পাগলা আছে যারা অনেক ক্ষমতাশালী। এরা নিজেদের ক্ষমতার বলে সাধারণ লোকদের উপর অনেক রকমের অত্যাচার করে,যা বাইরের লোক সহজে জানতে পারে না।
এখানকার মানুষেরা এমনিতেই নিষ্ঠুর। তাছাড়া আওয়ামীলীগ এসেছে ক্ষমতায়। কেউ তাদের কিছু বলতে পারবে না।
তাই এই দলের পাগলারা এখন অন্যধরণের একটা ভাবে আছে। কথা বললেই ঢুশ!
পাগলী!
সুতরাং পাগল হল এখন উভচর শব্দ,কিংবা উভয়লিঙ্গ শব্দ। যেমন-মানুষ একটি উভয়লিঙ্গ শব্দ।
মোটামুটি এই হল পাগল নামের পূর্ণ সমাচার।
এবার পাগলের সঙ্গায় আসি। যাদের মাথায় গন্ডগোল আছে,এক কথায় তারাই পাগল।
কিংবা যারা কল্পনার সাথে বাস্তবের যে পার্থক্য সেটা ধরতে পারে না,তাদের পাগল বলে।
অতীতে পাগল ছিল তারাই,যারা বনে-বাদে,ক্ষেত-ক্ষামারে, কিংবা হতে পারে বাজারে লোকের সামনে বিনা দ্বিধায় কাপড়-চোপড় খুলে দ্বিগম্বর হয়ে যেত, আর একা একা দেশের এমন সব কথা বলত যেগুলো বাস্তবায়িত হলে এক নিমিষে বাংলাদেশ আমেরিকার মত না হলেও ইন্ডিয়ার মত উন্নয়নশীল হয়ে যেত।
কালের বিবর্তনে পাগলদের প্রজাতির পরিবর্তন ঘটে। আস্তে আস্তে সেই পাগল লোকের গন্ডগোল সভ্য সমাজের মানুষের মাথায় ছড়িয়ে পড়ে।
সভ্য মানুষগুলো এই বিজ্ঞানের আধুনিক যুগে এসে পুরোপুরি পাগলের খাতায় নাম লিখিয়েছে। তার প্রমাণ রাস্তাঘাটে ঘুরলেই দেখা যায়।
আমার এ প্রবন্ধে আমি ঢাকা শহরের বিশেষ কিছু জায়গার পাগলদের বর্ণনা দিব।
গুলিস্তানঃ
ঢাকা শহরের পাগলদের প্রধান আস্তানার মধ্যে গুলিস্তান একটি। এখানে সর্ব কিসিমের পাগল বাস করে। এই এলাকাটি ঢাকা শহরের শুরুতে হওয়ার কারণে এখানে উঁচু-নিচু উভয় স্তরের পাগলদের দেখতে পাওয়া যায়। নিচু স্তরের পুরুষ পাগলারা সাধারণত রাস্তাঘাটে ছিনতাই,চুরি কিংবা মারামারি করে। মাঝে মাঝে তারা গ্রুপ বেঁধে ডু অর ডাই মিশনে যায়। এদের লাইফে ভয় বলে কিছু নেই। এরা উঁচু স্তরের পাগলাদের শ্রদ্ধা করে।
উঁচু স্তরের পাগলারা নিচু স্তরের পাগলাদের সামান্য কিছু টাকার বিনিময়ে কাজ করায়। উঁচু স্তরের পাগলারা বড় বড় ধান্দা করে। যেমন- এলাকার উন্নয়নের নামে সরকারী টাকা আত্নসাৎ।
গুলিস্তান যেহেতু পুরোন ঢাকার পাশাপাশি,তাই এখানে অনেক মহিলা পাগলীও দেখতে পাওয়া যায়। এ সমস্ত পাগলীরা রাতের অন্ধকারে পাগলাদের সাথে রতিক্রিয়ায় লিপ্ত হয়। মাঝে পুলিশ নামের পাগলারা হুমতাম করে ধমক দেয়,কিন্তু তারাও পাগলীদের নিয়ে সুখ চরিতার্থ করে।
এছাড়া কিছু উঁচু স্তরের পাগলী আছে যারা পাগলাদের সাথে টাউটগিরি করে। এই সমস্ত পাগলীরা অনেক প্রতিভাশীল। এদের বুদ্ধির সাথে পাগলারা সহজে পেরে উঠে না।
গুলশান+ধানমন্ডিঃ
এ দুটি এলাকা এবং মতিঝিল,উত্তরা,বনানী প্রভৃতি প্রায় একই সিস্টেমের আওতায় পড়েছে। এখানের বেশীরভাগ পাগলারা ভিআইপি। তারা দিনের বেলা দামী গাড়িতে চড়ে মোটা ভূড়ি নিয়ে চাকরী নামের অকাজ করতে বের হয়ে পুরো ঢাকা শহরকে নিজেদের দেহ দ্বারা আচ্ছাদিত করে রাখে।
এদের পাগলামো একটু বৈচিত্র ধরণের। এরা সাধারণত যাত্রা পথে গাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে এসির বাতাস খায়। মাঝে মাঝে যখন দুই-চারটা প্রকৃতির ছেলে (অসহায় বাপ-মা হীন) কিংবা জীবন যুদ্ধে পরাজীত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা তাদের কাছে হাত পাততে যায়,তখন এই পাগলারা মুখ ঝামটা মারে। অনেকে আবার হেডে সেন্টিমেন্টাল প্রবলেমের কারণে অসহায় শিশুদের ধরে মারে। তবে আমি এখন পর্যন্ত কোন বয়স্ক ফকিরকে মারতে দেখিনি।
এইসব এলাকার পাগলীরা ভয়ঙ্কর রকমের তারছিড়া। এরা রাস্তাঘাটে,শপিং মলে,ফুড শপে কিংবা ডিজে পার্টিতে টাইট জামা পড়ে নিজের দেহের পাহাড় উন্মোচন করে পুরুষের ন্যায় জিন্টসের প্যান্ট পড়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এদের সাথে অল্প বয়স্ক ছেলেরা কিংবা পাগলারা সহজে পেরে উঠে না। এরা অতি আধুনিকা পাগলী।
এরা চায় পুরো দেহ উন্মুক্ত করে দেখাতে,পাছে লোকে ভাবে এরা পুরোপুরি দ্বিগম্বর পাগলী হয়ে গেছে!
এই ভয়ে সেটা পারে না। তাই পাগলাদের চোখের সামনে নিজের দেহকে ঘরের শোকেসের মত সাজিয়ে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা করে। ডিজে পার্টিতে কোন পাগলা যদি এদেরকে কিছু বলে তাহলেই সর্বনাশ!
সেই হাফ পাগলাকে টোটালী ফুল পাগলা করে ছেড়ে দেবে এইসব ভয়ঙ্কর পাগলীরা।
তবে এদের মন খুব নরম। এরা যাকে ভালবাসে তার জন্য নিজের দেহের সম্পদ পুরোটাই দিয়ে দেয়। ভবিষ্যতের স্বামীর কথা চিন্তা করে না।
এদের চলাফেরার স্টাইল অদ্ভুত। এরা কখনো পুরুষের বেশে সেজে থাকে,কখনো বা গ্রাম বাংলার বধূর মত শাড়ি পড়ে। তবে তা নিতান্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়া পড়ে না বললেই চলে।
এই সমস্ত পাগলীরা নিজেদের দেহকে ছিড়ে ফুড়ে রাখতেও খুব ভালবাসে। যেমন- তারা প্রায়ই নাক ফুরানোর বদলে ভ্রু ফুরায়। কিংবা নিম্নাঙ্গে (যৌনাঙ্গ) আংটি পড়ে। এতে মনে হয় পাগলীদের মেডিটেশন বাড়ে!
এ ব্যপারে তারাই ভাল বলতে পারবে,যদি মাথায় গন্ডগোলের কারণে আমাকে কামড় দিতে না আসে তাহলেই হয়!
মিরপুরঃ
মিরপুর ঢাকা শহরের পাগলদের বিশেষ করে পাগলাদের অভয়াশ্রম। এর সবচেয়ে বড় অংশের পাগল থাকে মাজার এলাকা থেকে শুরু করে মিরপুর দশ পর্যন্ত। এর মধ্যে অন্তর্গত হয়েছে- পানির ট্যাঙ্কি,টোলারবাগ,পাইকপাড়া,পীরের বাগ, পুকুরপার ইত্যাদি প্রায় সবগুলো এরিয়া।
এখানকার পাগলদের অল্পতে মাথা গরম হয়ে যায়। তারা পথ শিশুদের ধরে ধরে কারণে-অকারণে মারে। এটা সম্ভবত তাদের একটা নেশা। এছাড়া মিরপুর এক নাম্বারের গ্রামীন ফোনের কাস্টমার কেয়ারের সামনে সন্ধ্যাকালীন সময়ে কিছু নিশিকন্যা দাঁড়িয়ে থাকে। তাদের সাথে পুলিশ নামের পাগলা ট্রাফিকের অনেক ঘর্ষণ-সংঘর্ষ ঘটে। (মনের সংঘর্ষ)
মাঝে মাঝে এই সব নিশিকন্যাদের ধরে ধরে মাথা বেশী গরম পাগলারা আঘাত করে। নিশিকন্যাদের আঘাত করলে কেউ কিছু বলেনা তো তাই।
মাজার অংশের পরিবেশ আবার ভিন্ন। সেখানে হুজুর নামের কবিরাজ মার্কা পাগলারা জোকের তেল,খুজলির মলম এবং লিঙ্গের মালিশ নিয়ে বসে থাকে।
বেকুব সাধারন পাবলিকরা এই সব লেকচার শুনে আর ভাবে তাদের দাম্পত্য জীবন রাস্তার মাঝেই সুখি হয়ে যাবে। এই সব পাবলিকদের মাঝে কিছু আছে মাজারের পাগলা। এরা মাজারের বিশাল বটগাছকে প্রভু মনে করে সেজদা করে,তাতে ধুপ জ্বালায়।
ইসলাম ধর্মের অপমান আরকি।
মাজারের পীর কোম্পানীগুলো তো আরেক ফটকা। তারা ধ্যান করে গাঁজা খেয়ে। একে তারা বলে সিদ্ধি। প্রচলিত আছে- সিদ্ধি খাইলে বুদ্ধি বাড়ে।
এই এলাকার পাগলীদের প্রধান দুষ্ট স্বভাব হল গাধা কিসিমের পাগলা ছেলেদের ধরে ডেটিং-এ যাওয়ার নাম করে পকেট থেকে পৈত্রিক সম্পদ যতদূর সম্ভব কাচিয়ে বের করা। এ ক্ষেত্রে যার যতদূর ইমপ্রেস করার ক্ষমতা সে তত বেশী কামিয়ে নিচ্ছে।
তবে এখানকার কিছু পাগলা আছে যারা অনেক ক্ষমতাশালী। এরা নিজেদের ক্ষমতার বলে সাধারণ লোকদের উপর অনেক রকমের অত্যাচার করে,যা বাইরের লোক সহজে জানতে পারে না।
এখানকার মানুষেরা এমনিতেই নিষ্ঠুর। তাছাড়া আওয়ামীলীগ এসেছে ক্ষমতায়। কেউ তাদের কিছু বলতে পারবে না।
তাই এই দলের পাগলারা এখন অন্যধরণের একটা ভাবে আছে। কথা বললেই ঢুশ!
বিএনপির পেটে আওয়ামীলীগের বাচ্চা!
স্থানঃ বসন্তের শুভ্র স্পর্শে কাতর নাতিশীতোষ্ণ মন্ডলীয় দেশ,বাংলাদেশের একটি জনবহুল শহর, সম্ভবত ঢাকা হইবার তীব্র আশঙ্কা করি।
তথাকার সংসদ ভবনে রাতের গোল মিটিং চলিতেছে। উপস্থাপক,বক্তা কিংবা অতিথি বলিতে সর্বদা যে দুই ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ করা যায়,তাহারাই আজ আসিয়াছে। অন্য কোন সেবক,খাদক কিংবা চাটুকারদিগের কেহই নাই।
একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং ভাবুক জনাব অমিত(আওয়ামীলীগ),চেহারা বুদ্ধিদীপ্ত এবং মেধার ঝিলিকের ন্যায়।
অপরজন মোটাসোটা,গোলগাল এবং মিষ্টি হাসির অধিকারী, পেশায় এডভোকেট,জনাব নয়ন(বিএনপি)।
আলোচনার শুরুতে প্রথমে চলিল কুরআন পাঠ,অতঃপর নিজের দলের প্রশংসার পূর্বে গলার রগ ফাটাইয়া অপর দলের কুকীর্তির সংক্ষিপ্ত এবং বিস্তারিত বয়ান।
অমিত এবং নয়নঃ দুই বন্ধু, তাহাদের শৈশব বড় মধুময়।
আট আনা লইয়া মার্বেল খেলিতে খেলিতে সারাবেলা পার করা,কিংবা হাটে যাওয়ার নাম করিয়া দুই বন্ধুর নৌকা সমেত নদ ভ্রুমণের কাহিণী হয়ত গাঁও-গেরামের লোকেরা ভুলিতে বসিয়াছে,কিন্তু তাহাদের এ বিষয়ে কোন প্রকার আপত্তি নাই।
গাঁয়ের লোকেরা অমিতকে চিনিত সিঁধেল চোর হিসেবে,আর নয়নকে চিনিত ধান্দাবাজ মিথ্যুক হিসেবে।
এ বিষয়ে নয়নের গুণ বেশী ছিল তাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। সে লোকদের ধরিয়া তাতক্ষণিক কার্যক্রম দ্বারা বোকা বানাইয়া তাহাদের উদর তথা পকেট নিঃস্ব করিবার খেলাটি অতি চমৎকারের সহিত রপ্ত করিয়া লইয়াছিল।
যাহাই হোক,অনেক বছর ধরিয়া তাহাদের দেখা নাই। বড় হইবার পর হঠাৎ সেই আশ্চর্য শহরে দুইজন দুইজনকে চিনিয়া ফেলিল।
শহরখানি ধুলাময়, নিস্প্রাণ এবং নিষ্টুরতার কালি ক্রমাগত লেপণ করিতে করিতে ইহাতে কেমন যেন এক বিষাদ কালিমার ছায়া পড়িয়াছে। সেই ছায়া আবার মনুষ্যদের দখল করিয়া লইয়াছে। নতুবা কেহই বলিতে পারিত না যে মনুষ্য কোন প্রকার খারাপ জাত।
পল্টন মাঠে নয়ন হঠাৎ অমিতকে দেখিয়া লাফাইয়া জড়াইয়া ধরিল। খানিকক্ষণ আহ্বলাদিত গলায় একজন আরেকজনের পরিবার এবং সংসারের কথা জিজ্ঞাসিল। তারপর কি সমাচার জিজ্ঞাসা করিবা মাত্র দুইজনেরই ভিমরতী খাইবার অবস্থা হইল।
কারণ কিছুই নহে,অমিত আওয়ামীলীগের নেতা,আর নয়ন বিএনপির মন্ত্রী।
নয়ন বলিল, ওরে,সময় থাকতে তুই আমার কাছে চলে আয়। তুই দেখিস নি গতবার বিএনপি কি বিপুল ভোটে জয়লাভ করল। তোকে দেশ সেবার ভাল একটা পদে দেওয়ার ব্যবস্থা আমি করে রাখব।
অমিত বলিল, তুই মিছেমিছি এই দলে পড়ে রয়েছিস। তুই আমার কাছে চলে আয়,দেখবি তোর জন্য আমি আমাদের দলের সবচেয়ে বড় নৌকা দিয়ে দিব। তোর টাকা-পয়সার কোন অভাব হবে না।
আর ধূর! বিরক্তি প্রকাশ করিল নয়ন।
এভাবে দলে টানাটানি কতক্ষণ চলিল তাহা বলা মুশকিল। তারপর যখন দুইজনেরই সুবুদ্ধির উদয় হইল যে দরকার হইলে তাহারা জীবনাত্না ত্যাগ করিবে,তবুও কেহই তাহার দল হতে বিন্দুমাত্র নড়িবে না।
তারপর হইতে দুই বন্ধুর এহেন নৈশ সাংসদিক গলা কাটাকাটি চলিতেছে। আজও তাহা যথাসময়ে শুরু হইল।
অমিত সাহেব আসন গ্রহণ করিয়া প্রথমে উপস্থিত বিরোধী দল ও নিজদলের প্রতি সালাম এবং জাতির নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করিল(যদিও তিনি বাঁচিয়া নাই)। তারপর শুরু করিল,
-আওয়ামীলীগ সমৃদ্ধি এবং সম্পৃতি বজায় রাখবার জন্য একটি উপযুক্ত দল। কিন্তু, যেদিন হতে বিএনপির ওই জিয়াউর রহমান তাঁর কুটনীতি শুরু করলেন সেদিন হতে দেশটা যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে।
-মাননীয় স্পীকার, (বাঁধা দিয়ে নয়ন সাহেব বলল) এখানে নিজের কার্যক্রমের বিবরণ না দিয়ে অপর দলকে গালাগালি করা হচ্ছে কেন?
স্পীকার সাহেব হাত তুলে থামিয়ে দিলেন নয়নকে। পুনরায় অমিতের বক্তব্য শুরু হল।
-জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার পর নিজের হাতে ক্ষমতা তুলে নিলেন,তখন অনেক সামরিক কর্তারাই এই অন্যায় আবদার সহ্য করতে পারেন নি। তাঁরা এর বিদ্রোহ শুরু করেন। এতে জিয়াউর রহমান ক্ষেপে যান। এই বিদ্রোহ দমন করতে তিনি ওই সমস্ত সামরিক লোকজন এবং কর্তাদের ক্যান্টনমেন্টের সামনে রাতের আঁধারে ফায়ারিং স্কোয়াডে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এ নৃশংস হত্যা কান্ডের সুষ্টু বিচার পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আনুমানিক শতাধিক লোকদের জিয়াউর রহমান ঐ রাতে হত্যা করেছিলেন।
-মাননীয় স্পীকার,(নয়ন সাহেবের চিৎকার) আমারও কিছু বলার আছে।
অনুমতি মিলায় নয়ন সাহেবও পূর্ণ উদ্যোমে নিজদলের গুণ কীর্তন শুরু করিল,তবে তার আগে আওয়ামীলীগের যাবতীয় গোমড় ফাঁস করিতে কৃপা বোধ করিল না।
-ভাই অমিত,আপনার জানার মধ্যে কিঞ্চিত ভুল আছে। বিএনপি কখনোই এরুপ অসৎকাজ কোনকালেই করার উদ্যেগ নেয় নাই। বিএনপির বিভিন্ন আন্তঃর্জাতিক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম আজ জাতির নিকট প্রশংসিত। আর আওয়ামীলীগ,সেতো এক মহা চোরের দল। চোর না হলে কেউ এহেন কাজ করতে পারে তা ভাবাই যায় না। ছি ছিহ! শেখ মুজিবের মত মানুষ শেষ পর্যন্ত এই কান্ড করলেন। বুঝলেন,সবই ক্ষমতা আর টাকার লোভ। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু যোদ্ধা শেখ মুজিবের কথামত কাজ করেনি। পরে এই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে তিনি মেরেছেন,তা জানলে দেশের লোকতো ছি ছি করবেই। শুধু তাই নয়, মুজিব চেয়েছিলেন তিনি যেন স্বৈরাচার শাসক হতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই পাকা ধানের মাচার উপর যারাই মই দিতে গিয়েছে তাদের সবাইকে গনহারে হত্যা করেছেন শেখ মুজিব। এই কথা বাইরের পৃথিবী শুনলে আওয়ামীলীগের মুখ বলে কিছু থাকবে?
-চোপ,হারামজাদা,(গাল দিয়ে উঠে অমিত) তোর বাপ-দাদা সবাই ছিল বিএনপির চামচা,তুইও হয়েছিস একটা খাস চামচ। তাই এইসব ফাঁকা বুলি ছেড়ে কাজ উদ্ধার করতে চাচ্ছিস!
নয়নও কম যায় না। সে বলে উঠল।
-চোপ বদমাইশের বাচ্চা,তোর মত নিজের খেয়ে পরের মহিষ তাড়ানোর লোক আমি না। আমি দেশের খেয়ে দেশের মহিষ তাড়াই।
ব্যাস,কথা আপাতত বন্ধ,তবে হাত চালাচালি শুরু হইয়া গিয়াছে। সামান্য মুখের কথায় একজনের নাক ফাঁটিল,অন্যজনের দাঁত ভাঙিল। কার কোনটা ভাঙিল সেটা বলা নিস্প্রয়োজন। তবে ভাঙিল যে তা ঠিক।
অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমান স্বর্গ বাসে হাসিতেছেন।
-কি বুঝলে জিয়া? মানুষ আমাদের সত্যিই ভালবাসে তাই না?
-না মুজিব ভাই,এরা মূলত আমাদের মতই। ওইযে বলল না,আমি দেশের খেয়ে দেশের মহিষ তাড়াই।
-তাতে কি,দেখনা চার বছর পর্যন্ত একাধারে আমার জন্মদিন,মৃত্যুদিবস,কাঙালী ভোজ এইসব পালিত হয়।
শেখ মুজিবের সহাস্য উত্তর।
-তা অবশ্য ঠিক,তবে বাকী চার বছরতো আমার ভাষণ দিবস,জন্মদিবস প্রভৃতি নিয়েই লোকে ব্যস্ত থাকে। আপনারটা নিয়ে তাদের ভাবার সময় কোথায়?
জিয়াউর রহমানের এহেন বক্তব্য শ্রবণে শেখ মুজিবর রহমানের অপমাণ বোধ হয়। তিনি জবাব দিলেন।
-তোমার মত যে লোক ফায়ারিং স্কোয়াডে মানুষদের মেরে ফেলে,তার মত খুনীর আবার কিসের দিবস পালন?
-আপনার মত লোক,যে কিনা ক্ষমতা ও টাকার লোভে দেশের নেতাবর্গদের থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যন্ত হত্যা করে,তার আবার কিসের দিবস পালন করবে লোকে? তাকে তো লোকজন ফুলের বদলে জুতা মারবে!
ব্যস,স্বর্গ এবং পৃথিবীর সমস্ত ক্রীয়া যেন একই সাথে শুরু হইয়া গেল। নিচে অমিত এবং নয়ন দুই নেতাকে লইয়া নাক-মুখ ফাটাফাটিতে ব্যস্ত।
অন্যদিকে দুই নেতাও নিজেদের সম্মান রক্ষা করিতে নিজেরা স্বর্গে খাইবার ফল-ফলাদি একে অপরের গায়ে ছুড়ে মারিতে লাগিলেন।
কথায় আছে, ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে।
নোটঃ এই লেখাটি একটি কাল্পনিক মনের পরিভ্রুমণ মাত্র। তবে ব্যক্তি এবং স্থান কিছুটা যুক্তির দাবী রাখে।
বিঃদ্রঃ একটি ঘটনার ছায়া অবলম্বনে। নয়ন এবং অমিত দুই ব্যক্তিই সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়াছিল।
তথাকার সংসদ ভবনে রাতের গোল মিটিং চলিতেছে। উপস্থাপক,বক্তা কিংবা অতিথি বলিতে সর্বদা যে দুই ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ করা যায়,তাহারাই আজ আসিয়াছে। অন্য কোন সেবক,খাদক কিংবা চাটুকারদিগের কেহই নাই।
একজন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ এবং ভাবুক জনাব অমিত(আওয়ামীলীগ),চেহারা বুদ্ধিদীপ্ত এবং মেধার ঝিলিকের ন্যায়।
অপরজন মোটাসোটা,গোলগাল এবং মিষ্টি হাসির অধিকারী, পেশায় এডভোকেট,জনাব নয়ন(বিএনপি)।
আলোচনার শুরুতে প্রথমে চলিল কুরআন পাঠ,অতঃপর নিজের দলের প্রশংসার পূর্বে গলার রগ ফাটাইয়া অপর দলের কুকীর্তির সংক্ষিপ্ত এবং বিস্তারিত বয়ান।
অমিত এবং নয়নঃ দুই বন্ধু, তাহাদের শৈশব বড় মধুময়।
আট আনা লইয়া মার্বেল খেলিতে খেলিতে সারাবেলা পার করা,কিংবা হাটে যাওয়ার নাম করিয়া দুই বন্ধুর নৌকা সমেত নদ ভ্রুমণের কাহিণী হয়ত গাঁও-গেরামের লোকেরা ভুলিতে বসিয়াছে,কিন্তু তাহাদের এ বিষয়ে কোন প্রকার আপত্তি নাই।
গাঁয়ের লোকেরা অমিতকে চিনিত সিঁধেল চোর হিসেবে,আর নয়নকে চিনিত ধান্দাবাজ মিথ্যুক হিসেবে।
এ বিষয়ে নয়নের গুণ বেশী ছিল তাতে সন্দেহের অবকাশ নাই। সে লোকদের ধরিয়া তাতক্ষণিক কার্যক্রম দ্বারা বোকা বানাইয়া তাহাদের উদর তথা পকেট নিঃস্ব করিবার খেলাটি অতি চমৎকারের সহিত রপ্ত করিয়া লইয়াছিল।
যাহাই হোক,অনেক বছর ধরিয়া তাহাদের দেখা নাই। বড় হইবার পর হঠাৎ সেই আশ্চর্য শহরে দুইজন দুইজনকে চিনিয়া ফেলিল।
শহরখানি ধুলাময়, নিস্প্রাণ এবং নিষ্টুরতার কালি ক্রমাগত লেপণ করিতে করিতে ইহাতে কেমন যেন এক বিষাদ কালিমার ছায়া পড়িয়াছে। সেই ছায়া আবার মনুষ্যদের দখল করিয়া লইয়াছে। নতুবা কেহই বলিতে পারিত না যে মনুষ্য কোন প্রকার খারাপ জাত।
পল্টন মাঠে নয়ন হঠাৎ অমিতকে দেখিয়া লাফাইয়া জড়াইয়া ধরিল। খানিকক্ষণ আহ্বলাদিত গলায় একজন আরেকজনের পরিবার এবং সংসারের কথা জিজ্ঞাসিল। তারপর কি সমাচার জিজ্ঞাসা করিবা মাত্র দুইজনেরই ভিমরতী খাইবার অবস্থা হইল।
কারণ কিছুই নহে,অমিত আওয়ামীলীগের নেতা,আর নয়ন বিএনপির মন্ত্রী।
নয়ন বলিল, ওরে,সময় থাকতে তুই আমার কাছে চলে আয়। তুই দেখিস নি গতবার বিএনপি কি বিপুল ভোটে জয়লাভ করল। তোকে দেশ সেবার ভাল একটা পদে দেওয়ার ব্যবস্থা আমি করে রাখব।
অমিত বলিল, তুই মিছেমিছি এই দলে পড়ে রয়েছিস। তুই আমার কাছে চলে আয়,দেখবি তোর জন্য আমি আমাদের দলের সবচেয়ে বড় নৌকা দিয়ে দিব। তোর টাকা-পয়সার কোন অভাব হবে না।
আর ধূর! বিরক্তি প্রকাশ করিল নয়ন।
এভাবে দলে টানাটানি কতক্ষণ চলিল তাহা বলা মুশকিল। তারপর যখন দুইজনেরই সুবুদ্ধির উদয় হইল যে দরকার হইলে তাহারা জীবনাত্না ত্যাগ করিবে,তবুও কেহই তাহার দল হতে বিন্দুমাত্র নড়িবে না।
তারপর হইতে দুই বন্ধুর এহেন নৈশ সাংসদিক গলা কাটাকাটি চলিতেছে। আজও তাহা যথাসময়ে শুরু হইল।
অমিত সাহেব আসন গ্রহণ করিয়া প্রথমে উপস্থিত বিরোধী দল ও নিজদলের প্রতি সালাম এবং জাতির নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করিল(যদিও তিনি বাঁচিয়া নাই)। তারপর শুরু করিল,
-আওয়ামীলীগ সমৃদ্ধি এবং সম্পৃতি বজায় রাখবার জন্য একটি উপযুক্ত দল। কিন্তু, যেদিন হতে বিএনপির ওই জিয়াউর রহমান তাঁর কুটনীতি শুরু করলেন সেদিন হতে দেশটা যাচ্ছেতাই হয়ে যাচ্ছে।
-মাননীয় স্পীকার, (বাঁধা দিয়ে নয়ন সাহেব বলল) এখানে নিজের কার্যক্রমের বিবরণ না দিয়ে অপর দলকে গালাগালি করা হচ্ছে কেন?
স্পীকার সাহেব হাত তুলে থামিয়ে দিলেন নয়নকে। পুনরায় অমিতের বক্তব্য শুরু হল।
-জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার পর নিজের হাতে ক্ষমতা তুলে নিলেন,তখন অনেক সামরিক কর্তারাই এই অন্যায় আবদার সহ্য করতে পারেন নি। তাঁরা এর বিদ্রোহ শুরু করেন। এতে জিয়াউর রহমান ক্ষেপে যান। এই বিদ্রোহ দমন করতে তিনি ওই সমস্ত সামরিক লোকজন এবং কর্তাদের ক্যান্টনমেন্টের সামনে রাতের আঁধারে ফায়ারিং স্কোয়াডে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এ নৃশংস হত্যা কান্ডের সুষ্টু বিচার পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আনুমানিক শতাধিক লোকদের জিয়াউর রহমান ঐ রাতে হত্যা করেছিলেন।
-মাননীয় স্পীকার,(নয়ন সাহেবের চিৎকার) আমারও কিছু বলার আছে।
অনুমতি মিলায় নয়ন সাহেবও পূর্ণ উদ্যোমে নিজদলের গুণ কীর্তন শুরু করিল,তবে তার আগে আওয়ামীলীগের যাবতীয় গোমড় ফাঁস করিতে কৃপা বোধ করিল না।
-ভাই অমিত,আপনার জানার মধ্যে কিঞ্চিত ভুল আছে। বিএনপি কখনোই এরুপ অসৎকাজ কোনকালেই করার উদ্যেগ নেয় নাই। বিএনপির বিভিন্ন আন্তঃর্জাতিক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রম আজ জাতির নিকট প্রশংসিত। আর আওয়ামীলীগ,সেতো এক মহা চোরের দল। চোর না হলে কেউ এহেন কাজ করতে পারে তা ভাবাই যায় না। ছি ছিহ! শেখ মুজিবের মত মানুষ শেষ পর্যন্ত এই কান্ড করলেন। বুঝলেন,সবই ক্ষমতা আর টাকার লোভ। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু যোদ্ধা শেখ মুজিবের কথামত কাজ করেনি। পরে এই সমস্ত মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে তিনি মেরেছেন,তা জানলে দেশের লোকতো ছি ছি করবেই। শুধু তাই নয়, মুজিব চেয়েছিলেন তিনি যেন স্বৈরাচার শাসক হতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই পাকা ধানের মাচার উপর যারাই মই দিতে গিয়েছে তাদের সবাইকে গনহারে হত্যা করেছেন শেখ মুজিব। এই কথা বাইরের পৃথিবী শুনলে আওয়ামীলীগের মুখ বলে কিছু থাকবে?
-চোপ,হারামজাদা,(গাল দিয়ে উঠে অমিত) তোর বাপ-দাদা সবাই ছিল বিএনপির চামচা,তুইও হয়েছিস একটা খাস চামচ। তাই এইসব ফাঁকা বুলি ছেড়ে কাজ উদ্ধার করতে চাচ্ছিস!
নয়নও কম যায় না। সে বলে উঠল।
-চোপ বদমাইশের বাচ্চা,তোর মত নিজের খেয়ে পরের মহিষ তাড়ানোর লোক আমি না। আমি দেশের খেয়ে দেশের মহিষ তাড়াই।
ব্যাস,কথা আপাতত বন্ধ,তবে হাত চালাচালি শুরু হইয়া গিয়াছে। সামান্য মুখের কথায় একজনের নাক ফাঁটিল,অন্যজনের দাঁত ভাঙিল। কার কোনটা ভাঙিল সেটা বলা নিস্প্রয়োজন। তবে ভাঙিল যে তা ঠিক।
অন্যদিকে শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমান স্বর্গ বাসে হাসিতেছেন।
-কি বুঝলে জিয়া? মানুষ আমাদের সত্যিই ভালবাসে তাই না?
-না মুজিব ভাই,এরা মূলত আমাদের মতই। ওইযে বলল না,আমি দেশের খেয়ে দেশের মহিষ তাড়াই।
-তাতে কি,দেখনা চার বছর পর্যন্ত একাধারে আমার জন্মদিন,মৃত্যুদিবস,কাঙালী ভোজ এইসব পালিত হয়।
শেখ মুজিবের সহাস্য উত্তর।
-তা অবশ্য ঠিক,তবে বাকী চার বছরতো আমার ভাষণ দিবস,জন্মদিবস প্রভৃতি নিয়েই লোকে ব্যস্ত থাকে। আপনারটা নিয়ে তাদের ভাবার সময় কোথায়?
জিয়াউর রহমানের এহেন বক্তব্য শ্রবণে শেখ মুজিবর রহমানের অপমাণ বোধ হয়। তিনি জবাব দিলেন।
-তোমার মত যে লোক ফায়ারিং স্কোয়াডে মানুষদের মেরে ফেলে,তার মত খুনীর আবার কিসের দিবস পালন?
-আপনার মত লোক,যে কিনা ক্ষমতা ও টাকার লোভে দেশের নেতাবর্গদের থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধাদের পর্যন্ত হত্যা করে,তার আবার কিসের দিবস পালন করবে লোকে? তাকে তো লোকজন ফুলের বদলে জুতা মারবে!
ব্যস,স্বর্গ এবং পৃথিবীর সমস্ত ক্রীয়া যেন একই সাথে শুরু হইয়া গেল। নিচে অমিত এবং নয়ন দুই নেতাকে লইয়া নাক-মুখ ফাটাফাটিতে ব্যস্ত।
অন্যদিকে দুই নেতাও নিজেদের সম্মান রক্ষা করিতে নিজেরা স্বর্গে খাইবার ফল-ফলাদি একে অপরের গায়ে ছুড়ে মারিতে লাগিলেন।
কথায় আছে, ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে।
নোটঃ এই লেখাটি একটি কাল্পনিক মনের পরিভ্রুমণ মাত্র। তবে ব্যক্তি এবং স্থান কিছুটা যুক্তির দাবী রাখে।
বিঃদ্রঃ একটি ঘটনার ছায়া অবলম্বনে। নয়ন এবং অমিত দুই ব্যক্তিই সেই ঘটনার বর্ণনা দিয়াছিল।
Subscribe to:
Posts (Atom)
