Sunday, May 9, 2010

নারীর পেটে আমাদের বাচ্চা! (শেষ পার্ট)

অনেকদিন পর আপনাদের জন্য কিছু লিখছি আমি। বর্তমানে সময়ের পরিস্থিতি খুব খারাপের দিকে।
ইদানিং আমাদের দেশে সুইসাইড বা আত্নহত্যার প্রবণতা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলায় জেলায় এবং শহরে শহরে আধুনিক মানষিকতার মেয়েগুলো আত্নহত্যা করছে।
এর জন্য সবাই পুরুষদের দোষারোপ করছেন। কিন্তু এক হাতে তালি বাজে না, এটা বোধহয় তারা ভুলে গেছেন।
অধিকাংশ পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী যা পাওয়া যায়,তা মোটামুটি এরকম-
অমুক জায়গায় অমুক স্কুল কিংবা কলেজের ছাত্রী বখাটে যুবকদের দ্বারা বেশ কয়েকদিন যাবত ইভটিজিং-এর স্বীকার হচ্ছিল। বখাটেরা প্রায় সময় উক্ত ছাত্রীকে উত্যক্ত করত এবং প্রেম নিবেদন করত।
ফলশ্রুতিতে গত অমুক তারিখে গলায় ফাঁস দিয়ে কিংবা বিষ খেয়ে আত্নহত্যা করেছে সেই স্কুল/কলেজ ছাত্রী।
মোটামুটি এই হল সকল জায়গার নির্যাতন বিবৃতি। কিন্তু এর কারণ কি তা কেউ ভেবে না দেখে বরং বখাটেদের ধরে আইনের হাতে তুলে দিচ্ছে।
বখাটেরা কি ওই সমস্ত অভিমানী মেয়েদের গায়ে হাত তুলেছে, নাকি তাদের জোর করে ধরে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে?
তারা শুধু সামান্য ইভটিজিং করেছে। এর জন্য মেয়েটি অন্য কোন ব্যবস্থা নিতে পারত। যে ব্যবস্থা প্রথমে নেয়া যেত।
যেমন- মেয়েটি হঠাৎ করে বিয়ের কার্ড নিয়ে এসে বলতে পারত, দেখুন ভাইয়া আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। এই নিন বিয়ের কার্ড, আপনাদের সবার দাওয়াত রইল।
এরপর নিশ্চয়ই বখাটেগিরী করতে ওই সমস্ত ছেলেদের বিবেকে বাধত।
অনেকে বলতে পারেন এদের আবার বিবেক কিসের?
আসলে সব দিক ভেবে চিন্তে দেখলে এটা মেয়েদেরই দোষ।
তবে ছেলেদের দোষও কিছুটা আছে।
আমি সম্প্রতি একটা গবেষণা চালিয়েছি সাইক ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট এন্ড টেকনোলজি কলেজের আটশ ছেলেদের উপর।
গবেষণায় দেখতে পেলাম ওই সমস্ত ছেলেদেরই ইভটিজিং-এর প্রবণতা বেশী যারা কোনভাবেই মেয়েদের সাথে সম্পর্ক গড়তে পারেনি।
তাদের সাধারণত গার্লফ্রেন্ড কিংবা লাভার নেই। এবং তারা এই ধরণের কিছু যোগার করার জন্য অনেক আগ্রহী। শুধু এক্সপেরিয়েন্স নেই বলে কি করে কি করতে হবে তা জানে না।
এই না জানার ফলে তারা মেয়েদের স্কুল-কলেজের সামনে উত্যক্ত করে এবং অশালীন মন্তব্য করে তাদের বুঝতে চায়।
এতো গেল ইভটিজিংকারী যুবকদের কথা। এবার আসুন দেখি যারা ইভটিজিং করে না,তারা কি ধরণের ক্ষতি করছে মেয়েদের।
ইভটিজিং যারা করে না তাদের বেশীরভাগই নারী জাতকে সম্মানের সাথে দেখে। তারা অনেক সভা-মিটিং করেও নারীর অধিকার ফলানোর জন্য লাফালাফি করে।
কিন্তু ইভটিজিং-এর ধারে কাছে দিয়েও এরা যায় না।
কারণ এরা জানে কি করে মেয়েদের পটাতে হয়। তারা তাদের মিষ্টি সুলভ কৌশলি বাক্য শুনিয়ে নারীর মন ভুলায় এবং ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব তথা প্রেম-ভালবাসা গড়ে তুলে।
তারপর সময় বুঝে সেই নারীর সর্বোচ্চ সম্পদ কুমারীত্ব নিজের হাতে নষ্ট করে। নারী এটা বুঝতেও পারে না।
কারণ তখন সে গভীর ভালবাসার আবেগে ডুবে থাকে। এরপর ফস করে ছেলেটি সরে পড়তে চায়,তখন মেয়েটি একেবারে শেষ মূহুর্তে যদি বুঝে ফেলে তখন সে ছেলেটিকে বিয়ের চাপ দেয় কিংবা অনুরোধ করে তার সাথে এ ধরণের বিশ্বাসঘাতকতা না করার জন্য।
ছেলেটি বাধ্য হয়ে এ ধরণের আপদ থেকে নিজেকে মুক্ত করতে হয় মেয়েটিকে নিজের হাতে খুন করে কিংবা এমন একটা পরিস্থিতি নিজে তৈরি করে যার ফলে মেয়েটির আত্নহত্যা ছাড়া উপায় থাকে না।

উপরের গড়পড়তার চিত্র দেখার পর বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই যারা ইভটিজিং করে তাদের দোষ শুণ্যের কোঠায়।
অন্যদিকে যারা এটা করে না, তারা সবার অলক্ষ্যে থেকে কি করে নারী জাতের সর্বনাশ করে চলছে। অবশ্য সবার বেলায় এই কথা প্রযোজ্য নয় এটা আমি হাযার বার স্বীকার করি।
আর যেই সমস্ত মেয়েরা আত্নহত্যার চিন্তা করছেন তাদের বলছি, মন এত নিচু প্রকৃতির কেন আপনাদের?
এত অসহায় বোধ করেন কেন আপনারা?
আবার সময় হলে ঠিকই তো নারী আর পুরুষ সমানধিকার বলে ব্যাঙের মত একটা লাফও দেন!
তাহলে এই বৃথা অভিমান করে আত্নহত্যার মাধ্যমে অমূল্য জীবন নষ্ট করে কি কোন উপকার হচ্ছে?
এই লজ্জা সমস্ত দেশের,এই লজ্জা সমস্ত মেয়ের,এই লজ্জা আপনাদের সবার।
এই লজ্জা এই ব্লগের ব্লগারদের।
এ লজ্জা আমার নয়,কারণ আমি তো প্রতিবাদ করেই যাচ্ছি।
আরেকটা বিষয় নারী পুরুষ সবারই জানা দরকার, সেই জিনিসটা জানানোর আগে একটি প্রশ্ন করছি।
আচ্ছা বলুনতো, নারীর শরীর বেশী লোভনীয়,নাকি পুরুষের শরীর বেশী লোভনীয়?

নারী সম্পর্কে একটি ভারতীয় বইয়ে বলাই আছে, নারী জাতি পুরুষের চেয়ে বেশী আকর্ষণীয় হয়েছে তাদের পদ্মকমল সুরভীত দুটি সৌন্দর্য মন্ডিত স্তনের কল্যাণে।

সুতরাং নারীকে দেখে পুরুষের লোভ লাগতে পারে,তবে পুরুষকে দেখে নারীর সহসা লোভ লাগার কারণ নেই। কারণ পুরুষের দেহের উপর অংশে এমন কোন উত্তেজক অঙ্গ নেই যা দেখে নারী নিজেকে হারিয়ে ফেলবে।
কিন্তু নারীর দেহ বিধাতা এমনভাবে বানিয়েছেন যা দেখে স্বভাবতই পুরুষের মনে এক অসীম কামনার আকর্ষণ অনুভূত হয়। কাজেই এখন সমাজের এই সব ছোট-বড় নারী পুরুষের গোলমাল বন্ধ রাখার জন্য কি করা উচিত আপনাদের মনে হয়?
অবশ্যই পর্দা করে নিজেদের রক্ষা করবে নারীরা। এছাড়া অন্য কোন উপায় নেই,থাকলে আপনি বলুন আমি মাথা পেতে মেনে নিব।
আরেকটা উপায় আছে। সেটা আমাকে এক মেয়ে বলেছিল। তা হল, পুরুষদের চোখকে নিচের দিকে নামিয়ে রাখা। তবে তা সব পুরুষের দ্বারা সম্ভব নয়। সামনে আছে মধুর রাজ্য,তা দেখে কি করে চোখ ফিরাবে সকল পুরুষরা? তাই সে আমাকে বলছিল পুরুষদের চোখ যদি উঠিয়ে দেওয়া হয়,তাহলে নিশ্চয়ই তারা সেই চোখ দিয়ে নারীদের সৌন্দর্য দেখে তাদের ইভটিজিং কিংবা ধর্ষণের মত কঠিন অপরাধ করতে পারবে না।
কিন্তু এ হচ্ছে নিষ্টূর যুক্তি। নারীরা শুধু মাত্র বোরখা পরিধানের মাধ্যমে পারে পুরুষদের কামনাকে দমন করতে।
কিন্তু নারীরা বর্তমানে চাচ্ছে তাদের দেহের সৌন্দর্য বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আঙ্গিকে পুরুষের কাছে প্রদর্শন করতে। কত পুরুষ তার জীবনে দরকার তা আমি ঠিক বুঝতে পারছি না।
নিজের জীবন সঙ্গীর জন্য শুধু সাজগোজ না করে সারা দেশবাসীর সেবায় নিজের দেহকে বিনিয়োগ করলে লাভ কি হতে পারে তা আমার জানা নেই।
আপনারা নারীরা যদি আমাকে বলেন যে কি লাভ তাহলে আমি খুশী হতাম। তবে আমার ধারণা,আবার কোন বদমাইশ বখাটে আপনাদের উত্যক্ত করবে,আর আপনারা অতি তাড়াতাড়ি এই দুনিয়া ছেড়ে যাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়বেন।
কারণ যেদিকে তাকাই সেদিকেই দেখি আজীমপুর গোরস্থান!
আপনাদের গন্তব্য যদি সেদিকেই হয় তাহলে আমার কিছু বলার নেই।
আর পর্দা করা আল্লাহর আদেশ, সেই কথা নাই বললাম। কারণ ইসলামের কথা বললেই বাংলার লোকেরা মনে করে বোধহয় জামায়াতে ইসলাম কিংবা হিযবুত তাহরীর সংগঠন বুঝি!
একটা বিষয় কি ভেবে দেখেছেন,যখন হিযবুত তাহরীর প্রথম দিকে তাদের সংগঠন কি উদ্দেশ্যে চালু করেছিল?
তাদের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দেশ হতে জাহেলিয়াত দূর করে মানুষের মনে ইসলামের আলো জ্বালিয়ে দিবে।
মাত্র স্বল্প কিছু সময় পরে কি হল, হিযবুত তাহরীর নিজেই জামায়াতে ইসলামের মত আরেকটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনে পরিণত হল।
কারণ হল মানুষ আজকাল ইতর হয়ে গিয়েছে। ইসলামের কথা শুনলে গা চুলকায় মাথা জ্বলে। অনেকের হয়তো আরো অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায়।
এ সমস্ত ক্ষেত্রে কোমলমতী নারীরাই আজ সবচেয়ে কঠোর।
কোথায় তারা স্বামীর ছায়ে থেকে তাকে ভাল কাজে সহায়তা করবে,তা না করে হাজার পুরুষের মনে নেশার আগুন জ্বালিয়ে কামনার উস্কানীমূলক প্ররোচনা চালায়।

এই সমস্ত কার্যকলাপ নারীবাদী সংগঠনের ফসল। নারীবাদ সংগঠন বলতে যা আছে দেশে,তার সবটাই পুরুষদের বিরুদ্ধে। অনেকে এই নারীবাদ শব্দ নিয়ে চিল্লিয়ে গলা ফাটালেও এর প্রকৃত কি অর্থ তা হয়ত বলতে পারবে না।
আমরা যেমন বলি-পূজিবাদ,সাম্যবাদ,রাজতন্ত্রবাদ, নারীবাদ তেমনই এক ধারা নিয়ে আঠারশ শতাব্দিতে যুক্তরাষ্ট্রে চালু হয়েছিল। সে সময় এর ধারা ছিল মূলত নারীর অধিকার এবং অত্যাচার প্রতিরোধের জন্য।
কিন্তু এর পর থেকে বর্তমান পর্যন্ত নারীবাদ শব্দটার অর্থই বদলে গেছে। এই নারীবাদ শব্দটি বাংলাদেশে মোটামুটি নব্বই দশকের পর থেকে লোক মুখে প্রচলিত হতে থাকে এবং কালক্রমে আমাদের দেশীয় অঙ্গনে এটি বেপরোয়াভাবে ঢুকে পড়ে।
নারীবাদ শব্দটা এসেছে ল্যাটিন শব্দ ফ্যামিনা থেকে। পরে ইংরেজিতে এসে ফেমিনিজম নামে নারীবাদ শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।

এই নারীবাদ নিয়ে এখন যত ফাও আন্দোলন হচ্ছে তার আর দরকার নেই। কারণ এই দেশে নারীরা পুরুষদের নির্যাতন করতে পারে,ঢালাও ভাবে ব্যবহার করতে পারে।
সর্বোপরি এই দেশের শাসনকর্তা এবং হর্তাকর্তা স্বয়ং একজন নারী! সেই দেশে নারীদের উন্নতি এবং অধিকারের পথে আর কি বাধা থাকতে পারে?
তারপরেও যা আছে তা টুকটাক বললে ভুল হবে না।
নারীবাদিরা পাগলের মত প্রলাপ বকে,তারা বলে বিশেষ করে ইসলাম নাকি তাদের একঘরে করে রেখেছে। ধর্ম বিদ্বেষী এ সমস্ত নারীরা মূলত নাস্তিক পর্যায়ের। পৃথিবীর রূঢ় বাস্তবতাকে এরা বিসর্জন দিতে চায় ধর্মের আড়ালে।
আমাদের নারীরা যে বলিউড-হলিউড দেখে রসাতলে গিয়েছে সেই বলিউডের দেশের এক বিখ্যাত জ্যোতিষি এবং পুরোহিত মনু বলেছেন,
-নারীদের অন্তঃকরণ নির্মল নয়; বেদস্মৃতিতে তাদের অধিকার নেই; তারা ধর্মজ্ঞানবর্জিত; মিথ্যা পদার্থ; পুরুষ পেলেই তারা সম্ভোগে মিলিত হতে চায়; তাদের চিত্তের স্থিরতা নেই; শয্যা,আসন,কাম,ভূষণ, ক্রোধ,কুটিলতা এবং পরহিংসা তাদের সহজাত প্রবৃত্তি; নারীরা পুরুষের জন্য নরকের দ্বার এবং নরকের কীট।

খ্রিস্ট ধর্মেও নারীদের অনেক দোষ ধরা হয়েছে। নারীরা পুরুষের তুলনায় নিকৃষ্ট,তাদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে সন্তান জন্মদান-বাড়ি এবং স্বামীর। সে জন্য ধর্মের সঙ্গে তাদের কোন যোগাযোগ কিংবা অধিকার নেই।

বিভিন্ন ধর্মে যখন নারীত্বের এরুপ অপমান করা হয়েছে তখন আমাদের ইসলাম ধর্ম নারীকে তার সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রদান করেছে। একটানে তাকে উঠিয়ে এনেছে রাজসিংহাসনে।
ইসলাম ঘোষণা দিয়ে দিয়েছে যে মায়ের পায়ের নিচে সন্তানের বেহেশত। মায়ের সামান্য মনক্ষুণ্ণ ভাব থাকলেও তার খুশী ভাব না হওয়া পর্যন্ত সন্তান বেহেশতে যেতে পারবে না।

এরপর ইসলাম সেই সাথে সতর্ক করে দিয়েছে যে সাবধান হে নারীরা! তোমরা নারীত্বের অবমানত্ব করো না। তোমাদের রুপকে পরপুরুষের সামনে ঢালাওভাবে উন্মোচন কোর না। নিশ্চয়ই বেগানা নারী পুরুষকে হাশরের মাঠে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে।
এত সম্মান প্রদানের পরও যখন মুসলিম নারীরা আধুনিক খৃস্টান তথা বিধর্মী সম্প্রদায়ের অনুকরণে নিজের হায়া-লজ্জাহীন ক্ষমতা ও অধিকার দাবি করে তখন তাদের উচিত ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করা। কেননা একেতো তারা ইসলামের আদেশ পালন করে না,দ্বিতীয়ত তারা সরাসরি আল্লাহর দেয়া নেয়ামতের বিরোধিতা করে মানুষের বানানো ক্ষমতা ও অধিকার নিয়ে গলা ফাটাফাটি করছে।
ইসলাম বলে নারীকে পর্দাপুষিদার সাথে ঘরে থাকার জন্য। আমাদের নারীরা এখন ইসলামের কোন বই পড়ে না, পড়ে তসলিমা নাসরীনের মত বিতাড়িত শয়তানের গোষ্ঠীর আদিম বর্বরতাময় অশ্লীল কাহিণী।

এই লেখিকা বাংলাদেশ হতে আউট অফ ডেট হয়েও মানুষ হয় নি, সে একজন প্রকৃত জীনাকারিনী। নিজের দেশে জীনা না করতে পেরে ভারতে যেয়ে হিন্দু নেতাদের সাথে জীনা করছে।
সে বাংলাদেশে থাকলে এতদিনে জামায়াত ইসলাম,হিযবুত তাহরীর কিংবা শিবিরের লোকজন হয়তো তাকে মেরে ফেলত।
আমি এই কথাটি পূর্বেও বলেছি যে এই সমস্ত ধর্মীয় সংগঠন ইসলাম অনুসারে চলতে চায় ঠিক,কিন্তু তারা আল্লাহর বিচারের রায়টি নিজের হাতে তুলে নেয় বলেই তারা নিষিদ্ধ,তারা বর্বর।
দেশে নারীরা অনেক ভয়ঙ্কর সব ইসলাম বিরোধী কাজ-কারবারে জড়িত আছে।
যেমন-মিরপুরের শাহ আলী মাজার, সিলেটের শাহজালাল মাজার ইত্যাদি মাজারের সামনে তারা দিনরাত ভীড় করে পীর সাহেবের একটু দর্শন পাওয়ার আশায়।
আজকালকার অধিকাংশ পীরগুলো সব ভন্ড।
এই যে জায়গায় জায়গায় উরস হয়,সেই উরসে পীরেরা গাজা খায়,বাশী খায়।
নিজের অনুসারীদেরও খেতে উস্কানী দেয়।
তারা নাকি পৃথিবীর যাবতীয় সমস্যা সমাধান করতে পারে মোটা টাকার বিনিময়ে।
উরসের দিন মহিলা এবং যুবতী মেয়েগুলোকে পীরেরা নাচানাচি করায়। তখন একটা গান গাওয়া হয়,

মনের পর্দা বড় পর্দা, উপরের পর্দা খুলরে।

তারপর তাদের উলঙ্গ করে পীরেরাই অশ্লীল অবৈধ যৌনতায় লিপ্ত হয়।
নারীরা উরস শেষে মাজারের কাছাকাছি কোন বট গাছকে সেজদা করে,ধূপ জ্বালায়।
মুসলমান ধর্মের ভিতর এই সমস্ত হিন্দুয়ানী ভন্ডামী কি করে যে ঢুকে গেছে আল্লাহ মালুম!

পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে লিখা আছে যে আল্লাহ জ্বীন ও ইনসানকে শুধু মাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন।
তাহলে আমরা জানার পরও এই সমস্ত ভন্ডরা পীর সেজে কি করে ফায়দা করছে।
তবে হ্যা,অনেকে হয়তো অলৌকিক কিছু পারতে পারে। কিন্তু এসব যারা পারেন তাঁরা কখনোই লোকের কাছ হতে টাকা পয়সা চান না। কারণ তাঁরা তো আসল সত্য পেয়েই গেছেন, সে হল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালবাসা।

আমাদের এই নারী সমাজকে ধ্বংস করেছেন মূলত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত চৌধুরী।
তাঁর উস্কানীমূলক কর্মকান্ডে তৎকালীন অনেক নারীর চিরন্তন ইসলামী চেতনার ভিত্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।
তার ফলশ্রুতিতে আজকের এই বিষাক্ত নারী প্রজন্ম।

অবশ্য এ কথা ঠিক যে কেয়ামতের পূর্বে নারীরা হায়া-লজ্জাহীন হয়ে যাবে,পুরুষের সাথে প্রতিযোগিতা করবে,নারীর ক্ষমতা পুরুষের চেয়ে বেশী হবে।
তার সবই তো ধীরে ধীরে ফলছে। তার মানে কেয়ামত আসন্ন। কিন্তু নারীদের মনতো বোধহয় প্রসন্ন।

মনে করুন আপনি রাস্তা দিয়ে একা একা হাটছেন,হঠাৎ একটি মেয়ে এসে বলল যে সে সাহায্য চায়।
আপনি ভাল মানুষ,তাই সাহায্য করতে গেলেন। খানিকবাদে যদি মেয়েটি গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে লোকজন জড়ো করে,তাহলে পাবলিকের মার খাবে কে?
ওই মেয়ে,নাকি আপনি?
ঠিক এ ঘটনা প্রায়শই আমাদের দেশে ঘটছে। এ ঘটনার সময় নারীবাদিরা কোথায় থাকে তা আমি জানি না। মনে হয় তারা সুবিধা পার্টি।
খেতে পারলে আছে,না খেতে পারলে নাই।
আমেরিকায় প্রতি একশ দম্পতির মধ্যে নব্বইটি দম্পতির জীবনে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এর কারণ কি জানেন?

তাদের দেশে শুধু নারী স্বাধীনতাই নয়,মানব স্বাধীনতাও আছে। তাই নারীরা যা ইচ্ছা তা করতে পারে। তারওপর দেশটা একদম খোলামেলা ধরণের মানষিকতার অধিকারী।
এ কারণে দেখা গেছে একজন নারী ক্রমাগত একজন পুরুষের সাথে সম্পর্ক রাখতে রাখতে এক সময় তার সম্পর্কে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তার কাছে মনে হয় নতুন পুরুষ ও নতুন সঙ্গী অবশ্যই আরো ভাল হবে।

ঠিক এ ব্যাপারটা আমাদের দেশসহ বিশ্বের আরো অন্যান্য মুসলিম দেশের নারীদের গোবর মস্তিষ্কে প্রবেশ করেছে। এখন এ থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই।
কারণ হাদিসে স্পষ্ট আছে যে কেয়ামতের পূর্বে মুসলিম নারীরা হায়া-লজ্জাহীন হয়ে যাবে। তাদের চিন্তা-চেতনায় থাকবে অশ্লীল সব কুকর্মের শয়তানিক ভাবনা।

সুতরাং দেশের নারীদের সাবধান করেই কোন লাভ হবে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আপনারাই এখন দেখবেন। এই যে একটা স্বার্থহীন জনকল্যাণমূলক পোষ্ট লিখলাম,তার জন্যও আমাকে হয়ত মাইনাস পেতে হবে।

একটা মজার ঘটনা বলি, ব্লগে কয়েকমাস আগে একজন নিরীহ ব্লগারের একটি পোষ্ট পড়েছিলাম। সে লিখেছিল- “ভাই, কি যে জ্বালায় আছি তা বোঝানোর সাধ্য আমার নেই। অনেক ব্লগার প্রথম পাতায় একাধিকবার পোষ্ট লিখে,কিংবা উদ্দেশ্যহীন ফাউল পোষ্ট লিখে অন্যকে জ্বালিয়ে মারে। আমি তাদেরকে এ বিষয়ে না লিখার জন্য অনুরোধ করলাম, এতেও অনেকগুলো মাইনাস পেলাম আর ব্যান হলাম।”
আমাদের অবস্থা ঠিক এরকমই। বিনা কারণে উষ্ঠা মারতে খুব মজা লাগে,কিন্তু ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীকে প্রতিবাদ করতে গেলে বুকের খাচা ভয়ের চোটে তিনবার আসমান-জমিন পার করে।

No comments:

Post a Comment