Friday, April 30, 2010

ঘরে বসে মোটা এবং চিকন হওয়ার টিপস!


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ এবং ব্লগারবৃন্দা, স্বাস্থ্য বিষয়ে লিখার তেমন আগ্রহ আমার ছিল না। কিন্তু গতকাল আমাদের এলাকার অত্যন্ত ভুটকু একটি ছেলে এবং শুটকো একটি মেয়েকে দেখে আমি এ বিষয়ে লিখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। আসুন,কথা না বাড়িয়ে আমরা দেখি কিভাবে আপনি খুব সহজে মোটা এবং চিকন হতে পারেন।

মোটা হওয়ার জন্য করণীয়ঃ মোটা হতে চায় এমন লোকের সংখ্যা বাংলাদেশে নেহায়েত কম নয়। এর বিশাল একটা অংশ আবার অত্যন্ত দরিদ্র ঘরের। তবে আমি অনেক বড়লোক ঘরের ছেলে-মেয়েদেরও দেখেছি যারা অত্যন্ত স্বাস্থ্যহীন। এর কারণ কি?
এ বিষয়ে আমার ধারণা যদিও সবার সাথে মিলবে না,তবুও আমি মনে করি জীবন এবং লাইফস্টাইলের প্রতি বিরক্তি এবং অতিরিক্ত টেনশন মানুষকে স্বাস্থ্যবান হওয়ার পথে বাধা দেয়।
তাই যারা শুটকো শরীর নিয়ে খুব বিপাকে আছেন, তাদের জন্য এই টিপস দেয়া হল। সকাল হতে রাত পর্যন্ত এই টিপস অনুসরণ করলে ইনশাআল্লাহ, আশা করি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সফলতা পাওয়া যাবে।

মোটা হওয়ার টিপসঃ সকাল বেলা তাড়াতাড়ি ঘুম হতে উঠুন। রাতে ভাল ঘুম না হলেও উঠা উচিত। সকালে তাড়াতাড়ি উঠা মানে নিজেকে সারাদিনের জন্য প্রফুল্ল চিত্তে রাখা।
প্রথমে একগ্লাস পানি খেয়ে হাল্কা ব্যায়াম করে আসুন। যদি শুকনো দেহে কুলোয়,তবে বার ইঞ্চি দুটো ইট দিয়ে প্রথমদিন থেকেই হাতের ব্যায়াম করতে থাকুন। যত বেশী পারবেন,তত আপনার মাসল উন্নত হবে।
ব্যায়াম করে এসে পুনরায় এক গ্লাস পানি খান।

সকালের নাস্তা হয়তো দেরীতে হবে,কিংবা আপনাকে হয়তো এমন কিছু খেতে দেওয়া হবে যা আপনার রুচিতেই আসে না।
নো প্রবলেম, খুজে দেখুন গত রাতের বাসী ভাত আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে একটি পেয়াজ,দুটো পোড়া মরিচ আর এক চামচ আয়োডিনযুক্ত গলগন্ড প্রতিরোধকারী লবণ নিন।
তারপর পানি দিয়ে পান্তা ভাত তৈরি করে খান।
এতে সবচেয়ে বড় সুবিধা হল আপনি যত বড় খাদকই হন না কেন আপনার পেট এই পান্তা ভাতের মাধ্যমে ভরে যেতে বাধ্য।
এরপর অনেকে আবার দুপুরের আগে কোন কিছু না খেয়েই থাকেন।
কিন্তু আর না, এখন থেকে অবশ্যই খেতে হবে।
ভাবছেন কি খাবেন?
দুপুরের জন্য যে ভাত রান্না হয়েছে তার মালসার মধ্যে দেখুন অত্যন্ত পুষ্টিকর ভাতের মাড় বা ফেন, যা প্রায় সময়ই গরুকে খাওয়ানো হয়, (ইহা আবার বাতের ব্যাধির জন্য অত্যন্ত উপকারীও বটে) সবটুকু নিন।
তারপর পরিমাণমত আয়োডিনযুক্ত লবণ নিয়ে চামচ দিয়ে ভাল করে নেড়ে খেয়ে নিন।
খেয়াল রাখবেন যাতে লবণের পরিমাণ বেশী না হয়,তাহলে অতিরিক্ত লবণ কটার জন্য খেতে পারবেন না।
সুন্দরভাবে নাড়াচাড়ার পর চামচ দিয়ে খেয়ে দেখবেন অত্যন্ত সুস্বাদু হয়েছে।
খাওয়ার পর আপনার মনে হবে আজ সারাদিন না খেলেও আপনার পেট ভরা থাকবে। এই মনে হওয়াটাকে পাত্তা দিবেন না।
দুপুরের ভাত যাতে ঠিকমত খেতে পারেন তার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। বাইরে থেকে ঘুরে আসুন। পকেটে কিছু টাকা থাকলে দোকান হতে চা খেয়ে আসুন। আর অবশ্যই একটা লম্বা হাটা দিয়ে আসবেন। তাহলে পেটটা খালি হওয়া শুরু হবে।
এরপর বাসায় এসে যেই তরকারীই থাকুক না কেন আপনার নারিকেল তেলের শিশি হতে বোতলের মুখে যে কর্ক রয়েছে তার পুরোটা ভর্তি করে সেই তেল মিশিয়ে ভাতের সাথে খেয়ে ফেলুন। এতে আপনার ভুরি তৈরি করার জন্য পেট অন্যধরণের এক উৎসাহ পাবে।
ভাত খাওয়া শেষে বিকেলের আগ পর্যন্ত একটানা ঘুম দিবেন। দেখবেন ঘুম থেকে উঠার পর শরীরটা একদম ঝরঝরে মনে হচ্ছে।
বিকেলে খাওয়ার কিছু নেই এই ভেবে আপনার মন খারাপ হচ্ছে?
নো টেনশন, যেসব বন্ধু-বান্ধবদের সাথে অনেকদিন ধরে দেখা নেই তাদের বাসায় হাজির হয়ে যান। কিংবা পরিচিত বড় ভাই অথবা ছোট ভাই হলেও সমস্যা নেই।
দেখবেন বেশ কয়েকদিন পর আপনাকে দেখে তারা অন্যধরণের এক অভ্যর্থনা জানাবেন। সেই সাথে সময় বুঝে বিকেলে এসেছেন বলে হাল্কা নাস্তা পানি এবং চা প্রদানে সচেষ্ট হবেন তাঁরা।
এই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগান। সবাই ভদ্রতা করে বলে “থাক,এসবের কি দরকার ছিল!”
আপনি এসব না বলে বলুন যে খিদেয় আপনার পেট চো চো করছে,দেখবেন আপনার জন্য কিছু বেশী খাদ্য-খানার ব্যবস্থা করা হবে। সব খাবার আপনি আবার নিঃশ্বব্দে খেয়ে ফেলবেন না যেন। স্বাভাবিকভাবে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যান। পাশাপাশি সব খাবার আপনার পেটে চালান করুন।
তারপর আরেকদিন আসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিদেয় নিন।
আর রাতের খাবার তো আপনার বাসায় অপেক্ষা করছে।
সারাদিনের ঘোরাঘুরি এবং ছুটন্ত চলন্ত ধান্দা শেষে আপনার রাতে হয়তো বেশী ক্ষিদা লাগবে।
আহার করুন যতটুকু আপনার পেটে সংকুলান হয়।
আপনি এভাবে তিন/চারদিন কাটালে খাবারের প্রতি আপনার অন্যরকম এক আগ্রহ প্রকাশ পাবে।
খাদ্যের স্বাদ আপনি হাড়ে-পিঠে টের পাবেন। প্রত্যেকদিন এই রুটিন অনুযায়ী চলবেন মাত্র এক থেকে দেড় মাস পর্যন্ত।
ইনশাআল্লাহ, এরপর আপনি নিজেকে চিনতে পারবেন না। মনে হবে আপনি গরুর দুধের খামার হতে উঠে এসেছেন।

চিকন হওয়ার জন্য করণীয়ঃ আমাদের দেশে অনেক পরিবার আছে যাদের টাকা এত বেশী যে কুত্তা-বিলাই খেয়েও সেই টাকা শেষ করতে পারে না। এইসব লোকের ছেলে-মেয়েরা সেই টাকার জোরে এমন দেহ ধারণ করে যা গিনেস রেকর্ড বুকে ১০০এর মধ্যে এসে পড়তেও কষ্ট হয়।
সেই মোটা দেহ নিয়ে রাস্তা-ঘাটে ঘুরে মানুষের মাঝে নিজেকে ভোটকা-ভুটকি হিসেবে আলোচিত করে। তাছাড়া অনেক ছেলে-মেয়ে শুধু এই স্থুল দেহের কারণে নিজের প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে হেয় হয়,এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কও নষ্ট হয়ে যায় এ তুচ্ছ কারণে।
তাই অতিরিক্ত মোটাদের জন্য এই শুকনো বা চিকন হওয়ার টিপস দিলাম।

চিকন হওয়ার টিপসঃ চিকন হওয়ার জন্য ছেলে-মেয়েদের একই পদ্ধতির দুটি উপায় অনুসরণ করতে হবে। পদ্ধতিটি বলার আগে আমি একটি কথা বলে নেই,এই পদ্ধতিতে আপনি যত সহজে এবং তাড়াতাড়ি চিকন হতে পারবেন,তা অন্য কোন পদ্ধতিতে কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। এ পদ্ধতিতে আপনার সময় লাগবে দুই থেকে আড়াই মাস। তবে শরীরের স্থুলতার ভিত্তিতে এ বেধে দেয়া সময় কমতে বাড়তে পারে। তবে অধিকাংশের বেলায় দুইমাসের মধ্যেই হয়ে যায়(পরীক্ষিত)।
আমি শুকনো হতে সময় নিয়েছি দেড়মাস।
আসুন কথা না বাড়িয়ে চিকন হওয়ার টিপস সম্পর্কে আলোচনা শুরু করে দেই। প্রথমে ছেলেদেরটা দিচ্ছি।
ছেলেঃ আপনাকে প্রতিদিন চার থেকে ছয় পোটলা তামাক (গাঁজা) টানতে হবে। সকালে নাস্তা খেয়ে একবার, দুপুরে খাবার আগে,পরে এভাবে আপনার সুবিধামত সময়ে আপনি শিডিউল ভাগ করে নিতে পারেন।
এ নিয়ে অবাক হওয়া কিংবা হাসাহাসি করার কিছু নেই। সিগারেট যারা খান তাঁদের বলছি তামাকের সাথে সিগারেটের একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক রয়েছে। ক্লাস নাইন-টেইন এবং ইন্টারে আপনারা পড়ে থাকবেন হাজার বছর ধরে ও পদ্মা নদীর মাঝি উপন্যাসের নায়ক চরিত্রগুলো কলকিতে তামাক খেত।
এই পদ্ধতি অনুসরণ করে যদি সাফল্য না পান তবে তার দায় সম্পুর্ণ আমার ঘাড়ে।

মেয়েঃ আমি আগেই বলেছি ছেলে আর মেয়েদের জন্য একই পদ্ধতির দুটি উপায় অনুসরণ করতে হবে। বুঝতেই পারছেন আপনাদেরও তামাক খেতে হবে। তবে যেহেতু মেয়েরা তাঁদের ঠোট কিছুতেই নষ্ট করবেন না, সুতরাং আপনারা তামাক খাবেন কলকিতে করে। অর্থাৎ হাজার বছর ধরে এর মন্তর মত করে।
রাজধানীর অনেক জায়গায় মাটির কলকি পাওয়া যায়। দাম পড়বে বিশ থেকে তিরিশ টাকা পর্যন্ত।
আর অনেকে হয়তো তামাকের উৎস সম্পর্কে মোটেও জানেন না।
নো প্রবলেম, আপনার এলাকাতেই এমন অনেক ভদ্র কিংবা অভদ্র গোছের লোক পাবেন যারা নিয়মিত তামাক খায়। তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তামাকের সাপ্লাই নিন। আর বানানোর পদ্ধতি তারা বেশ ভালই জানে।

সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ তামাক খেয়ে প্রথম প্রথম মাথা চক্কর দিতে পারে। সামলে উঠবেন এক থেকে দেড় সপ্তাহের ভিতর। আর দেড় দুই মাস পর যখন দেখবেন আপনার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটেছে,মানে স্লিম হয়ে যাচ্ছেন, তখন থেকে তামাক খাওয়ার পরিমাণটা কমিয়ে আনবেন। অনেকে আবার সিগারেটের মত তামাক খাওয়ার পর সেটা বন্ধ করতে চায় না।
সব কিছু নিজের কাছে,আমি দীর্ঘ ছয় মাস খেয়ে বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ করেছি। এখন আল্লাহর রহমতে আমার স্বাস্থ্য খুব স্লিমভাবে আছে।
অতিরিক্ত তামাক সেবনে দেহ কঙ্কালসার হয়ে যেতে পারে। অবশ্য সবার ক্ষেত্রে এই কথা প্রযোজ্য নয়, যেমন- মোটা মানুষের ক্ষেত্রে। সুতরাং, মোটামুটি দুই মাস পর আপনাকে অবশ্যই এটি বন্ধ করার জন্য আমি অনুরোধ করব।
আপনার জন্য শুভকামনা রইল।

বিনীত-
মোঃ আরাফাত হোসেন


বিঃদ্রঃ এই পদ্ধতিগুলো শুধুমাত্র টোটো কোম্পানীর ম্যানেজারদের জন্য (বাদাইমমাদের জন্য)। অন্যান্য লোকের বেলায় এই পদ্ধতি আলোচনা সাপেক্ষে ব্যক্তিগতভাবে সমাধান দেয়া হবে।

4 comments:

  1. বাইনচুদ ,এইসব কী লেখছছ?

    ReplyDelete
  2. ভাই। এগুলা বাদ দিয়া কাজের কথা লিখলেই পরতেন।

    ReplyDelete
  3. তুই আগে মোট হ কাঠির বাচ্ছা। তর বাপের বলগ যে আতা পাতা লেখছ।

    ReplyDelete
  4. মোটা হওয়ার টা আমার মতে ঠিকঠাক আছে কিন্তু চিকনা হওয়ার টা আমার মতে ঠিকঠাক নয়

    ReplyDelete