Friday, April 30, 2010

আসুন,এক থাপ্পর দিয়ে ঢাকা শহরের জ্যাম দূর করে ফেলি!


আর কত সহ্য করা যায় আব্বা বলুন?
আমি শশ্বুর সাহবকে প্রশ্ন করলাম। তিনি তখন লুঙ্গি উচিয়ে গুপ্তাঙ্গে বাতাস ঢুকানোর চেষ্টা করছেন। যে হারে লোডশেডিং হয়, তাতে করে আইপিএস-এর চার্জই হতে পারে না। ফ্যান ঘুরবে কি?
তাই মুরুব্বীদের বাতাস খেতে হলে এইভাবেই খেতে হবে।
আমার আজকের বিষয়বস্তু কিন্তু লোডশেডিং না, ঢাকা শহরের জ্যাম কমানোর উপায় নিয়ে আজকের এই স্পেশাল রেসিপি।

রেসিপি বলায় রাগ করবেন না যেন। মানুষ সবসময় একটু পাগলামী কথা বলতে ভালবাসে। আমার মধ্যেও এই ধরনের প্রবণতা আছে। যে কারণে আমি প্রায় প্রত্যেকটা পোস্টে এমন ভিন্ন কিছু ব্যবহারের চেষ্টা করি যাতে আপনারা আমার লিখা পড়ে মন্তব্য করেন। তবে আজকে একটা চরম সত্য কথা বলে ফেলি।
আমি কিন্তু শতকরা একশর মধ্যে নব্বইটি মন্তব্যের জবাবই দিতে পারি না।
কারণ আমি ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পাই খুব স্বল্প সময়ের জন্য। দেখা গেছে পাশের বাসার ভাই যখন আমার প্রতি একটু সদয় হবেন,তখন আমাকে মডেমটা দিয়ে যাবেন। সেটা হতে পারে আধাঘন্টার জন্য,কিংবা এক/দুই ঘন্টার জন্যও হতে পারে।
এ সময়টা আমি ব্লগের লিখাগুলো পড়ি,দুই-একটা লিখা আপলোড করি এবং দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির ফলে জ্ঞানের যে ঘাটতি দেখা গিয়েছে তা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি ইন্টারনেট ব্যবহার করে।
আর আমার কম্পিউটার?
সেতো জগতের নবম আশ্চর্যের একটি।
ফকিরের কপালে সিঁদুর উলে না” কথাটি ঠিক না। আমার কপালে কি করে যেন উলে গেছে।
কারণ এক রুমের ভিতর ঢাকা শহরে তিন ভাই ও বাবা-মাকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করার যে আনন্দ তা আমি ছাড়া আর কেউ জানে না। আমরা একটা রুমের ভিতর পুরো পরিবার বাস করি।
ইচ্ছা করে না,দায়ে পড়ে।
সেই রুমেই একজনের দয়ায় একটা সেকেন্ড হ্যান্ড সেলেরন প্রসেররের কম্পিউটার ঢুকে গেছে। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা বুঝি স্বপ্ন। পরে নিজের গায়ে দশ ইঞ্চি সুই দিয়ে দশটা গুতা দিলাম।
জানন তো,মানুষ কোন অপ্রত্যাশিত ঘটনার সম্মুখিন হলে নিজের গায়ে চিমটি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করে যা দেখছে তা বাস্তব কিনা।
আমি সুই দিয়ে গুতিয়ে তা পরখ করেছি।
অনেক আউল-ফাউল পেচাল হয়েছে। আসুন,কাম টু দ্যা পয়েন্ট।

আমার মত ছাত্র এই ব্লগে কতজন তা আমার জানা নেই। তবে বেশ বড় একটা সংখ্যা যে আছেন তাতে আমার কোন সন্দেহ নেই।
এই সব ছাত্রদের যানজট নিরসনে ভূমিকা সবচেয়ে বেশী।
যতই ফ্লাইওভার,ফুটওভার ব্রীজ কিংবা পাতাল রেল চালু করি না কেন, এই দেশে সহজে জ্যাম দূর হবে না নিচের স্টেপটি ফলো না করলে। সরকারের প্রতি অনুরোধ,এই সব ফ্লাইওভার,ফুটওভার করার ব্রীজ বানানোর জন্য বিদেশী ঋন নেওয়া কিংবা টাকা-পয়সা নষ্ট করার কোন মানে হয় না। কারণ অতীতে দেখা গেছে এসব বানানোর পরও জ্যামজট মোটেও কমে নি। বরং বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটু সংক্ষেপে বলি, যখন আপনারা রাস্তাঘাটে,শপিং-এ,পার্কে কিংবা হতে পারে গার্ডেনে,উদ্যেনে,বাদাড়ে ঘুরতে অথবা কাজে বেড়োবেন, তখনই যদি রাস্তাঘাটে (যেখানে পার্কিং করা নিষেধ বা লোক অথবা যানবাহণ চলাচল হচ্ছে) কোন গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় দেখেন তাৎক্ষণিকভাবে গাড়ির ড্রাইভারকে একটা রাম বয়রা মারবেন। বয়রা মানে হচ্ছে চটকানা।
এর আরো প্রতিশব্দ আছে। যেমন- চটোপাঘাত,থাপ্পর,কানসার নিচে ইত্যাদি।
কানসা বলতে যদিও মাছের নির্দিষ্ট পাখনাকে বোঝায়,তবে আজকাল ঢাকা শহরের অনেক ছেলেরাই কথায় কথায় বলছে “দিমু ধুইরা কানসার নিচে”।
অনেকে ভাবছেন এতে যানজট কমবে কি করে। আসলে যেকোন জায়গায় এই উল্টা-পাল্টা পার্কিং সিস্টেমের ফলেই অধিকাংশ জায়গায় জ্যাম লেগে যায়।
এছাড়া আরো কিছু কমন স্বভাব হয়েছে বাংলাদেশের ড্রাইভার নানাদের।
যেমন- তাঁরা অযথা ভাব দেখানোর জন্য ধীর গতিতে যানবহুল রাস্তায় গাড়ি চালাবেন।
এটি বন্ধ করার পর দেখবেন রাস্তাঘাট অনেক ফাঁকা হয়েছে,কিন্তু যানজট সেইভাবে আশানুরূপে কমেনি। এর দায়িত্বও কিন্তু আপনাদেরই।
নতুন ঘোষণা চালু করে দিতে হবে ঘোষণা কমিটির মাধ্যমে। ঘোষণা কমিটি বানাতে না পারলে আমার সাহায্য গ্রহণ করুন। তবে শুরুতে আপনাদের মধ্য থেকে এমন একজন লোকের প্রয়োজন হবে যার কিনা সাংগঠনিক ক্ষমতা রয়েছে। অর্থাৎ প্রয়োজনের সময় ঘোষণা কমিটিকে মূহুর্তের মধ্যে আসমান-জমিনের মধ্য অংশ দিয়ে চালনা করতে পারবেন।
ঘোষণা কমিটি নির্মাণের পর সবাইকে জানাতে হবে- এখন থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দুটি দিন,যথা শুক্র ও শনিবার ছাড়া প্রাইভেট কার বেরোনো নিষিদ্ধ। যদি কোন প্রাইভেট কার এই দিনে দেখা যায়,তাহলে সেদিন কারের ড্রাইভারকে থাপ্পর না মেরে কারের আরোহীকে থাপ্পর মারা হবে। উক্ত দুইদিন প্রাইভেটকারের মালিকরা বিশাল ভলভো বাসে কিংবা এয়ার কন্ডিশান বাসে চলাচল করবেন।
থাপ্পর দেওয়ার আগে অবশ্যই আপনারা আগে একবার হাতে থুতু মেরে নিবেন। তা না হলে থাপ্পর পিছলে যেয়ে আস্তে লাগার সম্ভাবনা রয়েছে।
এভাবে টানা দুই থেকে তিন সপ্তাহ থাপ্পর মারামারি চলতে থাকলে দেখবেন রাস্তাঘাট বর্তমানের চেয়ে অন্তত চল্লিশভাগ বেশী ফাঁকা লাগছে।
ওয়ারেন্টি না,গ্যারান্টি দিলাম। বাকীটা থাপ্পর কমিটির চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
আশা করি একুশ শতকের ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়ার আগে এই কমিটির সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং বাংলাদেশে ফ্লাইওভার ছাড়াই মাত্রাতিরিক্ত জ্যামজট নিরসন হবে।

কমিটির নামটি আমি প্রস্তাব করে দিয়ে গেলাম। বাকীটা ব্লগার মহোদয়ত্রের সদিচ্ছার প্রতিফলন মাত্র।

জ্যাম সড় থাপ্পর কমিটি কার্যালয়

No comments:

Post a Comment